সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ ছয়মাস জেলবন্দি থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেতে চলেছেন লাদাখের পরিবেশ কর্মী ও ক্লাইমেট অ্যাক্টিভিস্ট সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। তাঁর বিরুদ্ধে জারি করা ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ডিটেনশন বা আটকাদেশ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিল এবার কেন্দ্র সরকার। তার ফলে খুব শিগগিরই তিনি মুক্তি পেতে পারেন বলে বেশ কয়েকটি সূত্র মারফত খবর।
কেন তাঁকে আটক করা হয়েছিল?
প্রসঙ্গত, গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে লাদাখে বিরাট আন্দোলন শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের মূল দাবি ছিল, লাদাখকে সম্পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হোক আর সংবিধানের ষষ্ঠ তপশীলির আওতায় বিশেষ সুরক্ষা দেওয়া হোক। সেই আন্দোলনে লেহ এলাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং বিক্ষোভের সময় সহিংসতার ঘটনাও ঘটে। আর ওই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজনের মৃত্যু হয় এবং বহু মানুষ আহত হন বলে অভিযোগ। তবে সেই ঘটনার কিছুদিন পর অর্থাৎ ২০২৫ এর ২৬ সেপ্টেম্বর পুলিশ সোনম ওয়াংচুককে ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের আওতায় আটক করে। আর পরে তাঁকে রাজস্থানের যোধপুর জেলে রেখে দেওয়া হয়।
সরকারের মূল দাবি ছিল, লাদাখে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য এবং সম্ভাব্য অশান্তি ঠেকাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ওই আটকাদেশ প্রত্যাহার করা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বক্তব্য অনুযায়ী, লাদাখে শান্তি এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আর সমস্ত পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়েই এই সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৩০ কিমি বেগে ছুটবে ট্রেন, দেশ জুড়ে হাইস্পিড ট্র্যাকের উন্নতিতে বড় সাফল্য রেলের
প্রসঙ্গত, সোনম ওয়াংচুকের আটক নিয়ে আইনি লড়াইও শুরু হয়েছিল। তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো দেশের সর্বোচ্চ আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন দায়ের করেছিল। আর সেখানে দাবি করা হয় যে, এনএসএ-এর আওতায় তাঁর স্বামীর আটক মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী আর অবৈধ। মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে আদালতে বিচারাধীন ছিল। এমনকি শুনানির সময় আদালত সোনমের স্বাস্থ্যের বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। সেই কারণেই কেন্দ্র সরকার সরকার বিষয়টিকে পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দেয়।












