সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গোটা বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের আগুন জ্বললেও ভারতের অর্থনীতির (Economy of India) জয়রথ এখনও অব্যাহত। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ব ব্যাঙ্কের (World Bank) সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট রিপোর্টে ভারতের আর্থিক বৃদ্ধির পূর্বাভাস নিয়ে বিরাট ইঙ্গিত মিলল। হ্যাঁ, ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার আগের অনুমানের থেকে সামান্য বাড়িয়ে ৬.৬ শতাংশ নির্ধারণ করল এই আন্তর্জাতিক সংস্থা। ফলে মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
কী বলছ বিশ্ব ব্যাঙ্কের রিপোর্ট?
গত ৮ এপ্রিল, বুধবার প্রকাশিত রিপোর্টে বিশ্ব ব্যাঙ্ক জানিয়েছে যে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা আর রফতানি বাণিজ্যের স্থিতিস্থাপকতার কারণে ভারতের অর্থনীতি একেবারে সিংহের মতো দাপটের সঙ্গে এগোচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৬ শতাংশ। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জানুয়ারি মাসে বিশ্ব ব্যাঙ্ক এই হার ৬.৫ শতাংশ হবে বলে মনে করছিল। আর এখন তা বাড়িয়ে ৬.৬ শতাংশ করা হয়েছে। এদিকে অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ৬.৯ শতাংশ বৃদ্ধির আশা করছে। সেখানে মুডিস ও ওইসিডি যথাক্রমে ৬ এবং ৬.১ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে।
তবে ভারতের আর্থিক গতিপথ মসৃণ হলেও কিছু আশঙ্কার কারণ থেকে যাচ্ছে। প্রথমত, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত। হ্যাঁ, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, আমেরিকা এবং ইজরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের প্রভাব গোটা বিশ্বের অর্থনীতির উপর পড়ছে। গতকাল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও তেলের বাজারে এখনো পর্যন্ত সংকট কাটেনি। আর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম ভারতের ঘরোয়া মুদ্রাস্ফীতির উপরেও সৃষ্টি করতে পারে চাপ। এর ফলে সাধারণ মানুষের হাতে খরচ করার মতো অর্থ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে। আর রান্নার গ্যাস এবং সারের উপর ভর্তুকির পরিমাণ বাড়লে সরকারি খরচ বাড়বে। যার ফলে পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগ কিছুটা কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: বন্দে ভারতের থেকেও দ্রুত গতি! ২২০ কিমি বেগের হাইস্পিড ট্রেন আনছে ভারতীয় রেল
এদিকে আমেরিকা এবং ইউরোপের বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা বাড়লেও বিশ্বের বড় বড় অর্থনীতির দেশগুলির ধীর গতির কারণে রফতানি বাণিজ্যে কিছুটা বাধা আসতে পারে। কিন্তু সামগ্রিকভাবে ভারত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে সবথেকে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এখন দেখার বিশ্ব ব্যাঙ্কের এই পূর্বাভাস খাটে কিনা।












