সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিশ্বজুড়ে আরও একধাপ এগোল ভারতের ইউপিআই সিস্টেম (Unified Payment Interface)। জাপান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়ার পর এবার আরও এক দেশে ভারতের ইউপিআই পরিষেবা চালু হতে চলেছে। হ্যাঁ, স্থানীয় কিউআর ভিত্তিক ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা একইভূত করার জন্য এবার ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়া (South Korea) সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে বলেই খবর। অর্থাৎ, এবার ভারতীয়রা দক্ষিণ কোরিয়ায় বেড়াতে গেলে বা সেখানে পড়াশোনা করতে গেলে কিংবা কাজে গেলে ইউপিআই দিয়ে পেমেন্ট করতে পারবে।
বিশ্বজুড়ে আধিপত্য ইউপিআই-র
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদী সোমবার হায়দ্রাবাদ হাউসে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতি লি জে মিয়ং এর সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। আর সেখানে দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়ন সম্পর্কিত বিভিন্ন আলোচনা করা হয়। যার মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। আর সেখানেই এই ইউপিআই সিস্টেম চালু করার কথা বলা হয়। তবে হ্যাঁ, সাধারণ মানুষের জন্য এই পরিষেবা চালু করার আগে অবশ্যই আরবিআই, এনপিসিআই এবং কোরিয়ান পেমেন্ট এজেন্সিগুলির সম্মতি দরকার। আর যদি একবার এই সিস্টেম চালু হয়, তাহলে ভারতীয়দের যে কোনও ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট থাকলে তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় ভ্রমণ বা কেনাকাটার ক্ষেত্রে ইউপিআই দিয়ে পেমেন্ট করতে পারবে।
জানিয়ে রাখি, ইতিমধ্যেই মালয়েশিয়া থেকে শুরু করে কাতার, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্স, ইজরায়েলের মতো দেশগুলোতে ভারতের ইউপিআই পেমেন্ট সিস্টেম চালু রয়েছে। সেখানে অনায়াসেই পর্যটকরা এই ইউপিআই-র মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারে। আর সেই তালিকায় এবার দক্ষিণ কোরিয়া যুক্ত হলে ইউপিআই এর পরিধি যে আরও বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এক কথায় ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম গোটা বিশ্বজুড়ে আধিপত্য দেখাচ্ছে এখন।
আরও পড়ুন: এসি ছাড়াও ঘর থাকবে ঠান্ডা! ৫০০ টাকা খরচ করে ছাদে করুন এই কাজ
না বললেই নয়, দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রপতির প্রথম ভারত সফর এটাই। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে এই বৈঠকে আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। দেশটির রাষ্ট্রপতি জানান যে, ক্রমবর্ধমান চাহিদার ক্ষেত্রে কোরিয়া ফাউন্ডেশন এবং কোরিয়ান এডুকেশন সেন্টারের মাধ্যমে ভারতে কোরিয়ান ভাষার প্রসার ঘটানো হবে। এমনকি ভারত এবং কোরিয়ার মধ্যে চলচ্চিত্র, সংস্কৃতি, ভাষা ও শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, সৃজনশীল কাজ সম্পর্কিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় আমরা মুম্বাইয়ে কোরিয়ান কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করব। এমনকি তাঁর সংযোজন, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ বর্তমান ২৫ বিলিয়ন ডলার থেকে বাড়িয়ে ৫০ বিলিয়ন ডলার করা হবে।










