আরও বিপাকে মুজিব কন্যা! হাসিনার দলের ৭ নেতাকে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ আদালতের

Published:

big-setback-for-sheikh-hasina

আনিষা চৌধুরী, কলকাতা: শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) দল নিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর বড় নির্দেশ। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাত শীর্ষ নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করে। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এএফএম বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রাক্তন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মহম্মদ আলি আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ এনান। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।

অভিযুক্তদের অনুপস্থিতিতেই চলেছে বিচার

আদালত জানিয়েছে, অভিযুক্তদের ৭ জনই বর্তমানে পলাতক। কাউক গ্রেফতার করা এখনো সম্ভব হয়নি। তবে তার জন্য বিচারকার্য থেমে থাকবে না। ফলে তাঁদের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া এগিয়েছে। অভিযুক্তদের হয়ে আদালত সরকারি আইনজীবী নিয়োগ করেছিল। জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হত্যা, হিংসায় উসকানি এবং আন্দোলন দমনের ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছিল তাঁদের বিরুদ্ধে। প্রসিকিউশন জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীদের উপর অকথ্য অত্যাচার এবং হামলা চালাতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠন ও ছাত্র সংগঠনের কর্মীদের ব্যবহার করা হয়েছিল।

মামলার রায়ে ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মহম্মদ আলি আরাফাত, শেখ ফজলে শামস পরশ এবং মাইনুল হোসেন খান নিখিলের যাবতীয় যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির ৫০ শতাংশ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সেই সম্পত্তি বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ওই আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে। প্রসিকিউশনের হিসাবে, ওই সময়ের হিংসায় ১৪০০-এর বেশি মানুষ নিহত এবং ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন। রাষ্ট্রপুঞ্জের মানবাধিকার দফতরের হিসাবেও মৃতের সংখ্যা প্রায় ১৪০০ বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: মিলবে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, বুলডোজার অ্যাকশনে কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

২০২৪ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেই ছাত্র আন্দোলন ধীরে ধীরে শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নেয়। ৫ অগস্ট তৎকালীন সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশে টিকতে পারেননি। তিনি দেশ ছেড়ে ভারতে চলে আসেন। এই মামলার আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনাকেও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এই সাত জনের মতনই মৃত্যুদণ্ড দেয়। একই মামলায় প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড এবং প্রাক্তন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।