সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিশ্বজুড়ে বাজছে যুদ্ধের দামামা। মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন যুদ্ধের কালো মেঘ (Middle East War)। সেই প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে দিলেন। এমনকি হামলার ডেডলাইন দিলেন প্রেসিডেন্ট (Donald Trump)। হ্যাঁ, ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যদি হরমুজ প্রণালী না খুলে দেওয়া হয়, তাহলে ইরানের সাধারণ মানুষের উপরেই আছড়ে পড়বে আমেরিকার বিধ্বংসী ক্ষমতা। আর এই চরম সংকটময় মুহূর্তে ভারতের হস্তক্ষেপ চেয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ফোন করেছেন তেহরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।
সময়সীমা বেঁধে দিলেন ট্রাম্প
সোমবার সকালে সোশ্যাল মিডিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প একেবারে কড়া মেজাজে জানিয়ে দেন, মঙ্গলবার রাত আটটার মধ্যেই হরমুজ প্রণালী বাণিজ্যিক চলাচলের জন্য খুলে দিতে হবে। আর ভারতীয় সময় অনুযায়ী বুধবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ এই সময়সীমা শেষ হচ্ছে। ট্রাম্পের ইঙ্গিত অনুযায়ী, এবার যদি প্রণালী না খোলা হয়, তাহলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে হামলা চালানো হবে। ট্রাম্প সরাসরি লিখেছেন, “প্রণালী খুলে দে… নাহলে তোদের নড়কে ঠাই হবে।” বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই হামলা শুরু হলে ইরানের সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাপন নিয়ে সংশয় তৈরি হবে।
এদিকে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি ভারতের বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্করকে ফোন করেছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী। দুই দেশের দিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে তাদের মধ্যে বিস্তর আলোচনা হয় বলে খবর। আরাঘচির সঙ্গে কথা বলার পরপরই কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাষ্ট্রপ্রধানদের সঙ্গে জয়শঙ্কর আলোচনায় বসেন। আর শুরু থেকেই ভারত যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষপাতী। পাশাপাশি যেহেতু আমেরিকা এবং ইরান দুই দেশের সঙ্গেই ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে, সেক্ষেত্রে দিল্লির কূটনৈতিক পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।
Received a call from Foreign Minister @araghchi of Iran. Discussed the present situation.
— Dr. S. Jaishankar (@DrSJaishankar) April 5, 2026
আরও পড়ুন: বাবা নেই, মা মিড-ডে মিল রাঁধুনি, UPSC ক্র্যাক করে ছেলে আজ IAS
প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতের ডেডলাইনের আগেই সোমবার থেকে ইরানের বেশ কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত ভাবে হামলা শুরু করে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি একটি বাসভবনে মার্কিন হামলায় ইতিমধ্যেই ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। আর ইরানের বিখ্যাত শরীফ বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যাস স্টেশনেও মার্কিন বাহিনী হামলা চালিয়েছে। তবে আমেরিকার এই দাপাদাপিতে ইরান মাথা নত করবে না বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। তাঁর দাবি, এই ধরনের হুমকিতে ইরান মোটেও ভয় পায় না, এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে তারা যে কোনও পদক্ষেপ নিতেই প্রস্তুত। এখন দেখার পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়।












