সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভ্যাঁপসা গরমে নাজেহাল মানুষজন। আর এই পরিস্থিতিতে ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য এসি, কুলার, ফ্যান আরও কত কিছু দরকার পড়ছে। এমনকি সবকিছুর চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া। তবে মাস শেষে বিদ্যুতের বিল হাতে আসলেই আর মাথা কাজ করছে না। কিন্তু দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জীবনযাত্রায় সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলেই এসির আরামের মাঝেও বিদ্যুতের বিল অনেকটাই মুকুব হবে (Energy Saving Tips)। শুধু মেনে চলুন এই টিপসগুলি—
এসির তাপমাত্রায় রয়েছে কলকাঠি
অনেকেই দ্রুত ঘর ঠান্ডা রাখার জন্য এসি ১৮ ডিগ্রিতে নামিয়ে চালান। তবে এটি বিদ্যুতের বিল বাড়ার সবথেকে বড় কারণ। রিপোর্ট বলছে, এসির তাপমাত্রা ১৮ এর বদলে যদি ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রিতে রেখে চালান, তাহলে প্রতি ডিগ্রিতেই প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। এছাড়াও এসির সাথে হালকা গতিতে সিলিং ফ্যান চালালে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়, আর এসির উপর উপর চাপ কমে। এতে বিদ্যুতের বিল অনেকটাই কম আসে।
প্রাকৃতিক উপায়ে রাখুন ঘর ঠান্ডা
দিনের বেলা সূর্যের তাপ সরাসরি ঘরে ঢুকলে এসির কার্যক্ষমতা অনেকটাই কমে যায়। সেই কারণে সকাল দশটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভারী বা গাঢ় রঙের পর্দা ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এতে বাইরের তাপ ঘরে কম ঢুকবে। আর সন্ধ্যা হলেই ঘরের জানলা খুলে দিন, যাতে বাইরের ঠান্ডা হাওয়া ঘরে ঢুকতে পারে। এতে রাতে এসি চালানোর প্রয়োজন পড়বে না। পাশাপাশি যারা উপরের তলায় থাকেন, তারা ছাদে রিফ্লেক্টিভ হোয়াইট বা তাপ প্রতিফলক রং লাগাতে পারেন।
ফ্রিজের সঠিক অবস্থান
গরমকালে ফ্রিজের উপরেও চাপ পরে। তাই ফ্রিজটিকে দেওয়াল থেকে অন্তত ৬ ইঞ্চি দূরে রাখার চেষ্টা করুন। এতে কম্প্রেসারের তাপ সহজে বেরিয়ে যেতে পারে। এছাড়া ফ্রিজের থার্মোস্ট্যাট সেটিংস উইন্টার থেকে সামার মোডে বদলানোর চেষ্টা করুন। আর ফ্রিজে অতিরিক্ত বরফ জমতে দেবেন না, এবং গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না। এতে বিদ্যুতের বিল অনেকটাই কমবে।
বদলান পুরোনো বাল্ব
যদি এখনো পর্যন্ত বাড়িতে সেই ফিলামেন্টওয়ালা পুরনো বাল্ব ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আজই তা বদলে ফেলুন। কারণ, এগুলো বিদ্যুতের বিল বাড়ানোর সবথেকে বড় কারণ। সাধারণ বাল্ব প্রচুর পরিমাণে তাপ উৎপন্ন করে, আর বেশি পরিমাণ বিদ্যুৎ টানে। যার ফলে বিদ্যুতের বিল অনেক বেশি হয়। তবে এর বদলে যদি ভালো মানের এলইডি ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে অল্প বিদ্যুতেই বেশি আলো পাওয়া যায় আর খরচও বাঁচে।
আরও পড়ুন: দিনেই নামবে আঁধার, ৫০ কিমিতে ঝড়! শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা ৫ জেলায়, আজকের আবহাওয়া
বন্ধ করুন স্ট্যান্ডবাই মোড
টিভি, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ব্যবহারের পর আমরা শুধুমাত্র রিমোট দিয়ে বন্ধ করে দিই। কিন্তু মনে রাখবেন, প্ল্যাগ থেকে যদি সুইচ বন্ধ না করেন, তাহলে যন্ত্রগুলো স্ট্যান্ডবাই মোডে থাকে। আর অল্প অল্প করে বিদ্যুৎ খরচ করতে থাকে। এমনকি মোবাইল চার্জার বা মাইক্রোওয়েভ ব্যবহারের পর সরাসরি মেইন সুইস বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করুন। তাহলে বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই কমবে।
এসি চালিয়ে ভুলেও করবেন না এই কাজ
অনেকেই এসি চালিয়ে ঘরের দরজা বা জানলা খুলে রেখে দেন। তবে জানলে অবাক হবেন, এতে বিদ্যুতের বিল অনেকটাই বাড়ে। কারণ, এক্ষেত্রে ঘর ঠান্ডা হওয়ার বদলে আরও গরম হয়ে যায়। আর ঘরের ঠান্ডা বাতাস বাইরে বেরিয়ে যায়। ফলে এসেকে আরও দ্বিগুণ কাজ করতে হয় যার। কারণ, কম্প্রেসারের উপর চাপ পড়ে এবং বিদ্যুতের বিল অনেকটাই বেড়ে যায়। তাই সব সময় এসি চালিয়ে ঘরের দরজা, জানালা বন্ধ করে রাখার চেষ্টা করুন।
সময় মতো চালান ওয়াশিং মেশিন বা ইস্ত্রি
জানলে অবাক হবেন, ওয়াশিং মেশিন কিংবা ইস্ত্রি যদি সময় মতো না চালানো হয়, তাহলে বিদ্যুতের বিল অনেকটাই বাড়ে। অনেকেই দুপুর বারোটা থেকে বিকেল পাঁচটার মধ্যে ওয়াশিং মেশিন বা ইস্ত্রি চালান। তবে এই সময় যেহেতু তাপমাত্রা বেশি থাকে, তাই মেশিনগুলোকে বেশি পরিমাণ কাজ করতে হয়। যার ফলে বিদ্যুতের বিল অনেকটাই বাড়ে। তাই চেষ্টা করুন সকালের দিকে কিংবা বিকালের পর ওয়াশিং মেশিন বা ইস্ত্রি চালানোর।












