১ জুন থেকেই গাড়ির দাম অনেকটাই বাড়াচ্ছে মারুতি সুজুকি

Published:

Maruti Suzuki

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আপনি কি মারুতি সুজুকির (Maruti Suzuki) কোনও গাড়ি কেনার চিন্তাভাবনা করছেন? তাহলে আপনার জন্য রইল বড় খবর। কারণ, আগামী ১ জুন থেকে নিজেদের সমস্ত প্যাসেঞ্জার গাড়ির দাম কিছুটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রিয় এই গাড়ি নির্মাতা সংস্থা। কোম্পানির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মডেল এবং ভেরিয়েন্টভেদে গাড়িগুলির দাম এবার সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে।

কেন হঠাৎ দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত?

আসলে এই দাম বাড়ার পিছনে উৎপাদন খরচের লাগাতার বৃদ্ধিকেই দায়ী করছে কোম্পানি। কারণ, মারুতি সুজুকি অফিসিয়াল বয়ান অনুযায়ী, গাড়ি তৈরীর প্রধান উপাদান যেমন স্টিল, প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম আর বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স পার্টসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে এখন আকাশছোঁয়া। এমনকি কাঁচামালের পাশাপাশি উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত পরিবহন এবং অন্যান্য খরচও আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। কোম্পানি জানিয়েছে, এতদিন যাবত এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা তারা নিজেদের কাঁধেই বহন করছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায় ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য এই দাম বৃদ্ধি জরুরী হয়ে পড়েছে।

এদিকে মারুতি সুজুকি মূলত তাদের দুটি আলাদা শোরুম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতের বাজারে গাড়ি বিক্রি করে থাকে। আর কোম্পানির ইঙ্গিত অনুযায়ী, আগামী মাস থেকেই দুটি চ্যানেলের প্রায় সমস্ত জনপ্রিয় গাড়ির দামই অনেকটাই বাড়ানো হতে পারে। সেক্ষেত্রে অ্যারেনা শোরুমের গাড়ির তালিকায় পড়ছে সাধারণ মধ্যবিত্তের পছন্দের Alto K10, S-Presso, Celerio, WagonR, Eeco, Swift, Dzire, Ertiga, Brezza এবং Vitara-র মতো জনপ্রিয় মডেলগুলি। অন্যদিকে নেক্সা শোরুমের তালিকায় পড়ছে প্রিমিয়াম সেগমেন্টের সব Baleno, Fronx, Grand Vitara, Jimny, XL6, Invicto এর মতো গাড়ি।

আরও পড়ুন: উদ্দেশ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ সাশ্রয়! ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশিকা জারি বিকাশ ভবনের

অতীতেও বেড়েছে দাম

না বললেই নয়, মারুতি সুজুকি যে প্রথমবার গাড়ির দাম বাড়াচ্ছে এমনটা নয়। কারণ, এর আগে গত বছরের এপ্রিল মাসেও কোম্পানি তরফ থেকে অনেকটাই দাম বাড়ানো হয়েছিল। সেই সময় কাঁচামাল আর নতুন সুরক্ষাবিধির কড়াকড়ির কারণেই কিছু কিছু নির্দিষ্ট ভেরিয়েন্টের দাম অনেকটাই বাড়িয়েছিল সংস্থা। এমনকি একধাক্কায় কিছু মডেলে ৬২হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বাড়াতে হয়েছিল। সেই তুলনায় এবারে ৩০ হাজার টাকার বৃদ্ধি কিছুটা কম হলেও যে গ্রাহকদের উপর বাড়তি চাপ পড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।