সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) পিছল আইপ্যাক মামলার শুনানি (I-PAC Case Hearing)। আজ শুনানির দিনক্ষণ ধার্য ছিল। এমনকি শুনানি চলাকালীন আদালতে একটি মুখ বন্ধ খামে স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেশ করে ইডি। তবে বিচারপতিরা সেই রিপোর্ট দেখে মামলার শুনানি একধাক্কায় তিন মাস পিছিয়ে আগামী ১৮ আগস্ট ধার্য করে।
সুপ্রিম কোর্টে ফের ধাক্কা
উল্লেখ্য, এদিন বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং ভিপিনচন্দ্র আঞ্জরিয়ার ডিভিশন বেঞ্চে এই হাই প্রোফাইল মামলার শুনানি ছিল। এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর পক্ষ থেকে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানিতে উপস্থিত থাকেন। তবে সবাইকে সশরীরে উপস্থিত না দেখে ইতস্তত বোধ করেন বিচারপতি প্রশন্তকুমার মিশ্র। কল্যাণকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেখে তিনি প্রশ্ন তুললে তৃণমূল সাংসদ যুক্তি দেন, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা আছে, আইনজীবীরা তাদের সুবিধার্থে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দিতে পারেন।
পাল্টা বিচারপতি প্রশান্তকুমার বলেন, ভার্চুয়ালি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আর ফিজিক্যাল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এর মধ্যে অনেক ফারাক। তবে বিচারপতির এহেন মন্তব্যে হাসির খোরাক বয় আদালত কক্ষে। শেষে বিচারপতি মিশ্র সমস্ত নথি ও ইডির নথি গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়ে মামলার শুনানি আরও ৩ মাস পিছিয়ে দেন।
আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি যেতেই বাজিমাত! কেন্দ্রীয় জলশক্তি মিশন থেকে ৩৯,০০০ কোটি পাচ্ছে বাংলা
উল্লেখ্য জানিয়ে রাখি, তৎকালীন তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনামলে অর্থাৎ গত ৮ জানুয়ারি কলকাতার সল্টলেকে অবস্থিত আইপ্যাকের শীর্ষ আধিকারিক প্রতীক জৈনর বাড়িতে হানা দেয় ইডি। তবে সেখানে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তল্লাশি অভিযান চলাকালীন নিজে হাজির হন। এমনকি ইডির অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত চলাকালীন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে ইডি অফিসারদের কাজে বাধা দেন, আর জোরপূর্বক তাদের হাত থেকে ল্যাপটপ এবং একটি সবুজ রঙের ফাইল আর কিছু নথিপত্র কেড়ে নিয়ে বাইরে বেরিয়ে যান। তদন্ত প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ আর তথ্য প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করার এই অভিযোগ তুলেই ইডি সুপ্রিম কোর্টের দারস্থ হয়েছিল। আর সেই মামলার শুনানি আবার পিছিয়ে দিল আদালত।










