প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল কলকাতা পুরসভায় (Kolkata Municipal Corporation)। অধিবেশন কক্ষের দরজা তালাবন্ধ থাকায় ভিতরে ঢুকতেই পারলেন না কাউন্সিলররা! বাধ্য হয়ে কাউন্সিলরদের নিয়ে ক্লাব রুমে বৈঠক সারলেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) এবং মালা রায়। এমতাবস্থায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক ডামাডোম।
ভিজিটার্স রুমে হল অধিবেশন
আজ, শুক্রবার পুরসভার মাসিক অধিবেশন হওয়ার কথা ছিল।কিন্তু পুরসভার কমিশনার স্মিতা পান্ডে আগেই বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিলেন যে কলকাতা পুরসভায় মাসিক অধিবেশন বাতিল। এদিকে কলকাতা পৌরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায় কাউন্সিলর গ্রুপে বার্তা দিয়েছিলেন শাসকদলের প্রত্যেক কাউন্সিলরকে আসতে হবে দুপুর দেড়টা নাগাদ। সোজা কথায়, অধিবেশন নেই, অথচ কাউন্সিলরদের বাধ্যতামূলক উপস্থিতি। অন্যদিকে আবার অধিবেশন কক্ষের দরজা বন্ধ ছিল। তাই শেষ পর্যন্ত ভিজিটার্স রুমে ৯০ জন তৃণমূল কাউন্সিলরদের নিয়ে হল অধিবেশন।
কী বলছেন ফিরহাদ হাকিম?
উপস্থিত সকল তৃণমূল কাউন্সিলরদের এদিন ধন্যবাদ জানিয়ে ফিরহাদ হাকিম জানান, “পুরসভার কালো দিন। অধিবেশন বাতিলের পর কলকাতায় কোনও বিপর্যয় হলে দায় কে নেবে? অধিবেশন ইচ্ছামতো বাতিল করা যায় না। সচিব নয়, অধিবেশন একমাত্র বাতিল করতে পারেন চেয়ারপার্সন। যেভাবে অধিবেশন বাতিল করা হয়েছিল, সেটা গণতন্ত্রের অপমান। রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করছি সংঘাত নয়, সাধারণ বাসিন্দাদের জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গণতন্ত্রে রক্ষা করুন। আমরা সকলে একসঙ্গে লড়ব।”
আরও পড়ুন: পুরসভা অতীত, এবার ২ মাসে ঘর ফাঁকা করার নোটিশ দিলেন তৃণমূলের প্রিয় মানুষ
ক্লাব রুমের বৈঠকে এদিন কোনও মাইকেরও ব্যবস্থা না থাকায় আলোচনা খালি গলাতেই করা হয়েছে। এদিকে ১৩৭ জন কাউন্সিলরদের মধ্যে ৯০ জন উপস্থিত থাকলেও বাকিরা না আসায় দলের অন্দরে ভাঙনের প্রসঙ্গ উঠে আসছে। এমনিতেও রাজনৈতিক পালাবদলের পর বহু পুরসভাতেই তৃণমূলের কাউন্সিলররা পদ থেকে ইস্তফা দিচ্ছেন। অন্যদিকে কলকাতা পুরসভার সচিব বদল করেছে রাজ্য সরকার। এতদিন কলকাতা পুরসভা সচিব ছিলেন স্বপনকুমার কুণ্ডু। বর্তমানে সেই পদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কিশোরকুমার বিশ্বাসকে।










