বন্যা নিয়ন্ত্রণে অ্যাকশন মোডে সরকার, DVC বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর

Published:

Suvendu Adhikari

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতির ক্ষমতা পরিবর্তনের পরেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল হয়েই চলেছে। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে নেওয়া বেশ কিছু সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে একের পর এক নয়া রূপ দিচ্ছে বিজেপি সরকার। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। এমতাবস্থায় রাজ্যের বন্যা (Flood) পরিস্থিতি মোকাবিলায় নয় পদক্ষেপ নিতে চলেছে শুভেন্দু (Suvendu Adhikari) সরকার। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ডিভিসিতে (DVC) ফেরানো হল রাজ্যের প্রতিনিধিকে।

সরকার বদলাতেই বন্যা নিয়ন্ত্রণে বড় ভাবনা!

প্রতি বছরই বর্ষায় বন্যায় ভাসে রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকা। সুধুবটাই নয় DVC তাদের জলাধারগুলি থেকে বেশি জল ছাড়লেই বানভাসি হয় পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, হাওড়ার নানা এলাকা। এমনকি দামোদর, রূপনারায়ণ, দ্বারকেশ্বরের জল ঢোকায় ভুগতে হয় মানুষকে। ঘাটাল-সহ পশ্চিম মেদিনীপুরের নানা এলাকায় সেই চিত্র প্রায়শই দেখা যায়। তৃণমূল আমলে মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারে বারে রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতিতে ডিভিসি-কে আক্রমণ করেছেন। ডিভিসির কারণেই ‘ম্যান মেড বন্যা’ বলে দাবি করতেন মমতা। কিন্তু এবার বদলেছে সরকার। তাই সাধারণের কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বন্যা নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ নেওয়া হতে চলেছে।

ডিভিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক শুভেন্দুর

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দুর্গাপুরে ডিভিসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছিলেন। সেই বৈঠকেই ভবিষ্যতে সমন্বয় বজায় রেখে জল ছাড়ার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এবার থেকে ডিভিসি রাজ্যের সঙ্গে সমন্বয় রেখে জল ছাড়বে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ দপ্তর এবং সেচ দপ্তরের প্রতিনিধিদের ডিভিসির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে কাজ করবে। পাশাপাশি রাজ্যে সরকার বদলের পর ফের ‘দামোদর ভ্যালি রিভার রেগুলেশনস কমিটি’-তে প্রতিনিধি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার। অর্থাৎ দীর্ঘ দু’বছর পর ফের এই গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে বাংলার প্রশাসনিক আধিকারিকরা অংশ নিতে চলেছে।

কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?

প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, “নবান্নে ডিভিসি-র চেয়ারম্যান সুরেশ কুমারকে রেখে বৈঠক হয়েছে। সমন্বয় বৈঠকও হয়ে গিয়েছে। নিম্ন দামোদর, ঘাটাল, কান্দি, মালদহ ও উত্তরবঙ্গ— রাজ্যকে এই পাঁচটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে, যেখানে বর্ষার সময়ে বিপর্যয় ঘটে। সেখানে পদক্ষেপ করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, “এখনই একশো শতাংশ সমাধান করতে পারব না। কারণ, আমরা খুব অল্প সময়ের জন্য দায়িত্ব নিয়েছি। কিন্তু পাহাড়ে মানুষ ভেসে চলে যাবে, আর মুখ্যমন্ত্রী মা দুর্গাকে নিয়ে প্যারেড করবেন, এটা এই সরকারে হবে না।”

আরও পড়ুন: সোনা পাপ্পু কাণ্ডে ফের ED-র ম্যারাথন তল্লাশি! সাতসকালেই অভিযান কলকাতা-মুর্শিদাবাদে

এছাড়াও শহর ও শহরতলিতে যাতে সামান্য বৃষ্টিতেই জল জমার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য রাজ্যের সমস্ত পুরসভাগুলিকে এখন থেকেই কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে প্রশাসন। বর্ষার প্রাক্কালে পুরসভাগুলির ভূমিকা নিয়ে বর্তমান পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানান, “সামনেই বর্ষাকাল। তাই নিকাশি ব্যবস্থা ও আবর্জনা পরিষ্কারের কাজগুলো অবিলম্বে শুরু করতে হবে।”