সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিশ্বের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের (Mount Everest) চূড়ায় এবার ইতিহাস সৃষ্টি করে ফেলল বিএসএফের (Border Security Force) মহিলা পর্বত আরোহী দল। দুর্গম হিমালয়ের সমস্ত বাধা এবং প্রতিকুল আবহাওয়াকে জয় করে গত ২১ মে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকাল আটটায় এভারেস্টের শীর্ষে ভারতের জাতীয় পতাকা উড়িয়েছেন এই লড়াকু মহিলারা। এমনকি শুধু শৃঙ্গ জয় নয়, বরং এই ৮৮৪৮ মিটার উচ্চতায় দাঁড়িয়ে জাতীয় গান ‘বন্দেমাতরম’ গেয়ে অনন্য নজির গড়েছেন বিএসএফ-র এই নারী শক্তি।
ঐতিহাসিক কৃতিত্ব মহিলাদের
আসলে বিএসএফ-র এই ঐতিহাসিক এভারেস্ট জয়ী দলে ছিলেন ভারতের বিভিন্ন প্রান্তের অত্যন্ত সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা চারজন মহিলা কনস্টেবল। তারা হলেন—পশ্চিমবঙ্গের কনস্টেবল মুনমুন ঘোষ, লাদাখের কনস্টেবল কাউসার ফাতিমা, উত্তরাখণ্ডের কনস্টেবল রবেকা সিং এবং কার্গিলের কনস্টেবল সেরিং চোরোল।
যে উচ্চতায় সাধারণ মানুষের পক্ষে সোজা হয়ে দাঁড়ানো পর্যন্ত কঠিন, এমনকি অক্সিজেন ছাড়া শ্বাস নেওয়া বিরাট চ্যালেঞ্জ, সেখানে দাঁড়িয়ে এই চার মহিলার নিখুঁত আর অবিচল কণ্ঠে ‘বন্দেমাতরম’ গাওয়ার ঘটনা আজ গোটা দেশবাসীর গর্বে বুক ফুলিয়ে তুলেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এই ঐতিহাসিক সাফল্যে গোটা দলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন যে, এই অসাধারণ অর্জন নারী শক্তির অদম্য সাহসের প্রতীক।
উল্লেখ্য, বিএসএফ-র মুখপাত্র জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের এই এভারেস্ট অভিযানের পেছনে দুটো গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। প্রথমত, ১৯৬৫ সালে গঠিত হওয়া বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের ৬০ তম বা হীরক জয়ন্তী বর্ষ, আর দ্বিতীয়ত বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সৃষ্টি ‘বন্দেমাতরম’ রচনার ১৫০ তম বার্ষিকী পূর্ণ হচ্ছে এই ২০২৬ সালে। আর এই বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই এই পরিকল্পনা করেছিল তাঁরা।
BSF’s first-ever All Women Mount Everest Expedition Team has created history under Mission Vande Mataram by successfully reaching the summit of Mount Everest.
(Video Source: BSF) pic.twitter.com/9iyP0Ssa3A
— IANS (@ians_india) May 21, 2026
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মীদের বীমা প্রকল্প নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি নবান্নর, সুদের হারও ঘোষণা রাজ্যের
এমনকি চলতি বছরের শুরুতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফ থেকে একটি বিশেষ নির্দেশিকা দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, যেখানে জাতীয় গান এবং জাতীয় সংগীত একসঙ্গে পরিবেশন করা হবে, সেখানে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মূল রচনার সবকটি স্তবক প্রথমে গাওয়া বাঞ্ছনীয়। আর সেই দেশাত্মবোধক ধারাকে বজায় রাখার জন্যই এরকম পদক্ষেপ।










