বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: “জয় ইস্টবেঙ্গল।” দীর্ঘ 22টা বছর কাটিয়ে লাল হলুদ বাহিনী (East Bengal FC) জাতীয় স্তরের ট্রফি জেতার পর গতকাল রাত থেকেই গোটা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে গিয়েছিল এই একটা স্লোগানেই। প্রথমবার ISL জয় বলে কথা, সমর্থকরা যে আবেগী হয়ে পড়বেন সেটাই স্বাভাবিক। তবে শুধু ইস্টবেঙ্গল ভক্তরা নন, লাল হলুদের ফুটবলার থেকে শুরু করে প্রধান কোচ এমনকি ক্লাব কর্তারাও এদিন আবেগে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি। গতকাল রাতেই, লাল হলুদের ট্রফি নিয়ে একসঙ্গে উদযাপন করেন ফুটবলার এবং কোচিং স্টাফরা। আর এ দিনই একেবারে প্রত্যাশিতভাবে লাল হলুদের হেডস্যার জানিয়ে দিলেন, ইস্টবেঙ্গলের সাথে এবার আলোচনায় বসতে রাজি তিনি।
পরের মরসুমেও ইস্টবেঙ্গলের কোচ আস্কার!
এদিন লাল হলুদ ইন্ডিয়ান সুপার লিগ জিতে ভারতসেরা হতেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে প্রধান কোচ অস্কার ব্রুজো একেবারে খোলাখুলি বলেন, “ক্লাবের যদি কোনও পরিকল্পনা থাকে তবে আমি কথা বলতে অবশ্যই রাজি। তবে যদি পরিকল্পনা না থাকে তাহলে তো কোনও কথাই নেই। এই বিষয়টা ফুটবলারদের ক্ষেত্রেও একই।” এদিন দলের সাফল্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্প্যানিশ কোচ বলেন, ইস্টবেঙ্গল বাহিনীর কৃতিত্বকে একেবারেই খাটো করে দেখলে চলবে না। তাঁরা 11 মাস ধরে এই টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েছেন। ভাল ফুটবল উপহার দিয়ে গিয়েছেন। সেই কাজেরই ফল পেলেন।
অস্কারের সংযোজন, “এ সিজনের অন্যতম সেরা একটা ম্যাচ খেললাম। আজকের ম্যাচটা খুব ভাল হয়েছে। আমরা কিন্তু লড়াই করে মাঠে ফিরেছি। এইজন্যেই বলে ফুটবলে আশা ছাড়তে নেই। আজ ইতিহাস তৈরি করলাম আমরা। আশা করি ভবিষ্যতেও আমরাই ট্রফি জিতব।” এদিন লাল হলুদ ফুটবলারদেরও বেশ প্রশংসা করেন প্রধান কোচ। সেই সাথেই নিজের বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে বুঝিয়ে দেন, ইস্টবেঙ্গল কর্তা ও ম্যানেজমেন্ট যদি তাঁর সাথে আলোচনায় বসতে রাজি হয়, তবে পরের মরসুমেও কোচ থাকতে অসুবিধা নেই অস্কারের।
অবশ্যই পড়ুন: মাতৃহারা হলেন টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা, প্রয়াত ভাস্কর ব্যানার্জির মা
উল্লেখ্য, এবারের ইন্ডিয়ান সুপার লিগে ইস্টবেঙ্গলের সাথে সাথে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বড় সুযোগ ছিল মোহনবাগানেরও। যদিও সদ্য শেষ ইন্ডিয়ান সুপার লিগে লাল হলুদের পেছন পেছনই ছিল মোহনবাগান। পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে থেকে গোল পার্থক্যে অনেকটাই পিছিয়েও লড়াই অব্যাহত রেখেছিল সবুজ মেরুন। তবে গতকাল ইন্টার কাশীকে বধ করে লাভের গুড় খেল ইস্টবেঙ্গলই।










