প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বঙ্গে পালাবদলের পরেই নতুন সরকার একের পর এক গুরুতর পদক্ষেপ করে চলেছে। বুধবার একটি নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে অনুমতি ছাড়া সংবাদমাধ্যম বা সমাজমাধ্যমে কোনও মতামত বা মন্তব্য করা যাবে না। ফলে প্রথমে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল যে সমস্ত সরকারি বা সরকার-পোষিত কর্মীদের (Government Employees) উপর সংবাদমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপানো হচ্ছে, আর তাতেই বাধে বিতর্ক। এমতাবস্থায় নির্দেশিকার ব্যাখ্যা দিল নবান্ন (Nabanna) । বৃহস্পতিবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে স্পষ্ট হল, এর আওতায় থাকছে কারা।
২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদল, নয়া বিজ্ঞপ্তি নবান্নর
বৃহস্পতিবার, নবান্নের নয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র রাজ্য সরকারের নিয়মিত দফতরগুলির আধিকারিক ও কর্মচারীরাই সংবাদমাধ্যম বা সমাজমাধ্যমে কোনও মতামত বা মন্তব্য করবে না। পাশাপাশি সরকার নিয়ন্ত্রিত বোর্ড, পুরসভা, পুরনিগম, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এবং অন্য ‘প্যারাস্ট্যাটল’ সংস্থার কর্মীরাও এই নির্দেশিকার আওতায় থাকবেন। ফলে প্রথমে যে সমস্ত সরকারি বা সরকার-পোষিত কর্মীদের উপর সংবাদমাধ্যমে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছিল, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই সিদ্ধান্ত অনেকটাই বদলে গেল। পরিমার্জিত নির্দেশিকায় ছাড় দেওয়া হল শিক্ষাক্ষেত্রকে।

ক্ষুব্ধ বিরোধীরা
বুধবারের নির্দেশিকা নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে। বিরোধী রাজনৈতিক দল, আইনজীবী মহল এবং সংবাদমাধ্যমের একাংশ অভিযোগ তোলে যে, এই নির্দেশিকা কার্যত সরকারি কর্মীদের বাকস্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করছে। আইনি মহলেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। যদিও সরকারের একাংশের দাবি, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সরকারি তথ্যের অপব্যবহার রুখতেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছিল। এদিকে মূল নির্দেশিকা এখনও প্রত্যাহার করা হয়নি। অর্থাৎ IAS, WBCS, WBPS-সহ রাজ্য সরকারের স্থায়ী আধিকারিক ও কর্মীদের ক্ষেত্রে সংবাদমাধ্যমে তথ্য আদানপ্রদানের উপর কড়াকড়ি এখনও বহাল রয়েছে।
আরও পড়ুন: AI প্রযুক্তি আনছে রেল, সহজ হবে কনফার্ম টিকিট পাওয়া
অন্যদিকে এই পদক্ষেপকে মেনে নিতে পারেনি বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস। নয়া নির্দেশিকাকে শৃঙ্খলারক্ষার নামে সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ ও গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তারা। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন যে, “সরকারি কর্মীদের বাকস্বাধীনতা ও সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারা অনুসারে মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করল রাজ্যের বিজেপি সরকার। শুধু তাই নয়, এই নির্দেশের পর ডিএ থেকে শুরু করে নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে আর কোনও আন্দোলন করতে পারবেন না সরকারি কর্মীরা।”










