পেছনেই থেকে গেল মোহনবাগান, ইন্টার কাশীর দেওয়াল ভেঙে ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল

Published:

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: অবশেষে যোগ্যতা দিয়ে ভাগ্য লিখল ইস্টবেঙ্গল (East Bengal FC)। ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নের তকমা গায়ে সাঁটালো লাল হলুদ। দল ছেড়ে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেও প্রধান কোচ অস্কার ব্রুজো চেয়েছিলেন, সবকিছু ভুলে শেষ মুহূর্তে লাল হলুদকে সফল দল হিসেবে দেখতে। শেষ পর্যন্ত প্রধান কোচের মান রাখলেন মিগুয়েল, রশিদরা। ইন্টার কাশীকে 2-1 ব্যবধানে হারিয়ে 22 বছর পর জাতীয় স্তরের ট্রফি কাঁধে তুলল লেসলি ক্লডিয়াস সরণীর ক্লাব।

মোহনবাগানকে ধাক্কা দিয়েই চ্যাম্পিয়ন লাল হলুদ

এবারের ইন্ডিয়ান সুপার লিগে ইস্টবেঙ্গলের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ ছিল মোহনবাগানেরও। তবে সেজন্য বাড়তি পরিশ্রম করতে হতো সবুজ মেরুনকে। আসলে প্রথম থেকে দাপুটে পারফরমেন্স দেখিয়ে গোল পার্থক্যের নিরিখে অনেকটাই এগিয়ে ছিল মশাল ব্রিগেড। সেই সূত্রেই পয়েন্ট তালিকার মগডালে জায়গা ধরে রেখেছিল তারা। অন্যদিকে মোহনবাগান চলছিল ইস্টবেঙ্গলের পেছন পেছন। পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে থেকে চ্যাম্পিয়ন হতে হলে নিজেদের ম্যাচগুলিতে বড় ব্যবধানে জেতার পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলের হারের প্রার্থনা করতে হতো তাদের। তবে প্রার্থনা করলেও লাল হলুদ থেমে থাকেনি। তাই সবুজ মেরুনকে পেছনে রেখেই চ্যাম্পিয়ন হল মশাল সেনা।

এদিন কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে 8 হাজারেরও বেশি দর্শককে সাক্ষী রেখে ঝকঝকে ফুটবল খেলছিল ইস্টবেঙ্গল। ম্যাচের একেবারে শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা ধরে রেখে প্রতিপক্ষের উপর চাপ বৃদ্ধি করে চলেছিল শহরের এই ঐতিহ্যবাহী দলটি। আজ লাল হলুদের প্রায় প্রত্যেকেই নিজেদের সাধ্যমতো নিংড়ে দিয়েছেন। তবে বৃহস্পতিবার, শহরের স্টেডিয়ামে ম্যাচের একেবারে শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গলের হয়ে দর্শকরা গলা ফাটালেও 14 মিনিটের মাথায় তাঁদের চুপ করিয়ে দিয়েছিল ইন্টার কাশী।

অবশ্যই পড়ুন: ব্রেকফাস্টে আনুন দক্ষিণী টুইস্ট! বাড়িতেই বানিয়ে নিন নীর ধোসা ও চাটনি

প্রথমেই গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে খানিকটা ধাক্কা দিয়েছিল প্রতিপক্ষ। যদিও দীর্ঘ চড়াই উতরাই পেরিয়ে 49 মিনিটের মাথায় লাল হলুদের হয়ে প্রথম গোলটি করেন এজেজারি। তাতে আত্মবিশ্বাস পান দলের বাকিরা। এরপর প্রধান কোচ অস্কার চাইছিলেন এমন ফুটবল দেখাতে যাতে প্রতিপক্ষের কোমরও ভাঙবে এবং লাল হলুদকেও বাড়তি খাটনি করতে হবে না। সেই মগজাস্ত্রের জোর এবং গোল করার খিদে নিয়ে শেষমেষ 72 মিনিটের মাথায় বিপিন সিংয়ের ক্রসে পা ছুঁইয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন মহম্মদ রশিদ। এক কথায়, এখানেই নিজেদের ভাগ্য লিখে ফেলেছিল লাল হলুদ। এরপর শত চেষ্টা করেও ইস্টবেঙ্গলের গোলের বদলা গোল দিয়ে নিতে পারেনি ইন্টার কাশী।