স্মার্ট মিটারে জোর! বাংলার বিদ্যুৎ পরিষেবায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

Published:

West Bengal

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে বঙ্গ রাজনীতিতে ক্ষমতা দখল করল বিজেপি। আর বাংলার মসনদ দখল করতেই একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। এমতাবস্থায় খবরের শিরোনামে উঠে এল বাংলায় (West Bengal) বিদ্যুৎ পরিষেবা (Electricity) বেসরকারিকরণের প্রসঙ্গ। জানা গিয়েছে, আর্থিক ক্ষতি কমানো ও পরিষেবার মান উন্নত করতে বাংলা সহ ৯ রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ বেসরকারিকরণ করতে চলেছে কেন্দ্র (Central Government Of India)।

পরিষেবা ও আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যে নেই ভারসাম্য

দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের বিদ্যুতের বিল কমাতে উঠে পড়ে লেগেছে কেন্দ্রীয় সরকার। তাই বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন করতে সংস্কার কর্মসূচি নিয়েছিল কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ মন্ত্রক। কিন্তু দেশজুড়ে সেই সংস্কার কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গ্রাহক চড়া হারে বিদ্যুতের বিল দিচ্ছে। অথচ সেই অনুযায়ী পরিষেবা পাচ্ছে না। মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার মধ্যে আর্থিক লেনদেনের সমন্বয়হীনতা। অনেক রাজ্যে বিদ্যুৎ বিল আদায়ে যেমন ঘাটতি দেখা যাচ্ছে ঠিক তেমনই পরিষেবা ও আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যে ভারসাম্য বজায় থাকছে না। এছাড়াও বিদ্যুৎ চুরি ঠেকানো যায়নি বহুলাংশে। আর তাই এবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বেসরকারিকরণ করতে চলেছে কেন্দ্র।

তালিকায় কোন কোন রাজ্য?

সূত্রের খবর, যেসকল রাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বেসরকারিকরণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেগুলি হল-পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, অসম, ছত্তিশগড়, গুজরাত এবং উত্তরাখণ্ড। এ রাজ্যগুলিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বেসরকারিকরণ জরুরি। এই সবুজ সংকেত শীঘ্রই মিলতে পারে। সম্প্রতি এসবিআই ক্যাপসের পক্ষ থেকে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। সেই রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, বিগত বছরগুলিতে দেশের সব রাজ্যের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার লোকসান কমেছে।

আরও পড়ুন: রাজ্যের নির্দেশিকাই বহাল! ‘ইদে গোহত্যা বাধ্যতামূলক নয়’ সব মামলা খারিজ হাইকোর্টে

২০১৫ সালে যেখানে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ক্ষতির হার ছিল ২৫% সেখানে ২০২৫ সালে কমে হয়েছে ১৫%। এদিকে লোকসান কমলেও সমস্যা রয়েই গিয়েছে আর তাই এই বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থার পরিষেবার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে এখনও বাংলায় স্মার্ট মিটার সর্বত্র চালু হয়নি। কারণ এই নিয়ে বিভ্রান্ত গ্রাহকরা। কিন্তু আদতে স্মার্ট মিটারে যে গ্রাহকদেরই সবদিক থেকে লাভ, সেটা বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন থেকে সরবরাহ পর্যন্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে স্বশাসিত কমিশন অথবা পর্ষদ তৈরি করতে হবে। ইতিমধ্যেই এই বেসরকারিকরণ নিয়ে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।