সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বকরি ইদ। তবে তার আগে রাজ্যে গরু-মোষ বা বলদ সহ বিভিন্ন পশু জবাইয়ের উপর রাজ্য সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা হস্তক্ষেপ করতে অস্বীকার করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে একটি জনস্বার্থ মামলার শুনানিতে আদালতের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইদ অনুষ্ঠানে গোহত্যা (Cattle Slaughter) করা ইসলামের কোনও বাধ্যতামূলক ধর্মীয় রীতি বা অংশ নয়। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ এই সংক্রান্ত একগুচ্ছ আবেদন খারিজ করে রাজ্য সরকারের গত ১৩ মে জারি করা বিজ্ঞপ্তিকে বহাল রেখেছে।
কী বলা হয়েছিল রাজ্য সরকারের নির্দেশিকায়?
আসলে রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পরেই পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় ১৩ মে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। সেখানে স্পষ্ট বলা হয় যে, উপযুক্ত সরকারি চিকিৎসকের দেওয়া ফিটনেস সার্টিফিকেট বা সুস্থতার শংসাপত্র ছাড়া কোনও বলদ, গরু, বাছুর, ষাঁড় বা মোষ জবাই করা যাবে না। শুধুমাত্র সরকারিভাবে অনুমোদিত আর নির্দিষ্ট কসাইখানাতেই এই ধরনের জবাই সম্ভব। প্রশাসন যে কোনও স্থানে আকস্মিক তল্লাশি চালাতে পারে বলেও জানানো হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।
কিন্তু মামলার শুনানির সময় আদালত শুধুমাত্র সরকারের বিজ্ঞপ্তিকে বহাল রাখেনি, বরং সেই বিজ্ঞপ্তিতে অবিলম্বে আরও দুটি বিশেষ শর্ত যুক্ত করার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশও দিয়েছে। প্রথমত, কোনও খোলা বা সাধারণ মানুষের যাতায়াত রয়েছে এরকম পাবলিক প্লেসে গরু বা মোষের মতো পশু জবাই করা নিষিদ্ধ করতে হবে। আর দ্বিতীয়ত, সুপ্রিম কোর্টের আগের রায়ের সূত্র টেনে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট উল্লেখ করতে হবে যে, ইদ উৎসবে গোহত্যা করা ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বাধ্যতামূলক নয়।
#BREAKING Calcutta High Court has DISMISSED the petitions challenging the #WestBengal government’s restriction on #Cattle slaughter ahead of #Eid.#CalcuttaHighCourt https://t.co/GMwHncUkRs pic.twitter.com/NpgqnaszAq
— Live Law (@LiveLawIndia) May 21, 2026
আরও পড়ুন: ২০২১ ভোট পরবর্তী হিংসায় উস্কানি! পরমব্রত, স্বস্তিকার বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ হইকোর্টের আইনজীবীর
এদিকে মামলাকারীদের পক্ষে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক আখরুজ্জামান আদালতে যুক্তি দিয়েছিলেন যে, বিজ্ঞপ্তিতে ছাড় সংক্রান্ত ধারা ১২ উল্লেখ না থাকার কারণে সাধারণ মুসলিমদের ধর্মীয় রীতি পালন করতে সমস্যা হবে। তাঁর দাবি, ইদের আগে ছাগল বা ভেড়ার দাম আকাশছোঁয়া হয়ে যায়, যা সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের একেবারে সাধ্যের বাইরে চলে যায়। সেই তুলনায় মোষ বা বলদের মতো বড় বড় পশু ভাগাভাগি করে কোরবানি দিলে অনেকটাই সাশ্রয় হয়। কিন্তু আদালত এই অর্থনৈতিক যুক্তির ভিত্তিতে মূল বিধিনিষেধ ভাঙতে রাজি হয়নি। যদিও হাইকোর্ট জানিয়েছে যে, রাজ্য সরকার চাইলে আইনের ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিশেষ ছাড় বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এমনকি সেক্ষেত্রে আগামী ২৭ বা ২৮ মে উৎসব অনুষ্ঠিত হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যকে সেই ছাড় আবেদনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।










