বাদ যাচ্ছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের উপভোক্তারা! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেওয়ার আগে শুরু যাচাই

Published:

Annapurna Bhandar

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: আগামী জুন মাস থেকেই রাজ্যজুড়ে শুরু হতে চলেছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প (Annapurna Bhandar), যেখানে ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা প্রতিমাসে সরাসরি তাদের নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০০০ টাকা করে পাবেন। কিন্তু এই প্রকল্পের টাকা উপভোক্তদের অ্যাকাউন্টে ছাড়ার আগে এবার তালিকা স্বচ্ছ করার জন্য কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন (Government of West Bengal)।

তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের জনপ্রিয় লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তারা নতুন প্রকল্প অর্থাৎ অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের আওতায় সুবিধা পাবেন, এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তবে তার আগে নদীয়া জেলা প্রশাসন সেই তালিকায় থাকা অযোগ্য আর ভুয়ো উপভোক্তাদেরকে চিহ্নিত করতে ব্লক ও মহাকুমা স্তরে ব্যাপক তথ্য যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে।

ভোটার তালিকা এবং এসআইআর প্রক্রিয়াকে হাতিয়ার করে তল্লাশি

প্রশাসন সূত্রে খবর, নদিয়া জেলার আনুমানিক ১৪ লক্ষ মহিলা এতদিন পর্যন্ত লক্ষীর ভাণ্ডার প্রকল্পের টাকা পাচ্ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর প্রক্রিয়া হিসেবে বহু নাম সেই তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাই নতুন প্রকল্পের টাকা দেওয়ার আগে বিডিও এবং সাব ডিভিশনাল অফিসারদের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা ভোটার তালিকা, প্রশাসনিক নথি এবং অন্যন্য সমস্ত তথ্য মিলিয়ে দেখেন। বিশেষ করে তিনটি বিষয়ের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, যে সমস্ত উপভোক্তা ইতিপূর্বে মারা গিয়েছে অথচ তালিকায় নাম রয়েছে, তাদেরকে বাদ দেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, বিবাহ বা অন্য কোনও কারণে যারা এলাকা ছেড়ে স্থায়ীভাবে অন্য জায়গায় চলে গিয়েছে, তাদেরকে বাদ দেওয়া হবে। আর তৃতীয়ত, এসআইআর স্লিপ বিতরণের সময় যাদের খোঁজ মেলেনি, তাদেরও অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার ঢুকবে না।

কারা পাবে না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা?

আসলে নতুন সরকারের এই প্রকল্পের অপব্যবহার রুখার জন্য একাধিক শর্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে ইতিমধ্যেই ক্রাইটেরিয়া তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে জানানো হয়েছে, কোনও স্থায়ী সরকারি চাকরিতে কর্মরত কিংবা কেন্দ্রীয় বা রাজ্য সরকার বা কোনও সংবিধিবদ্ধ সংস্থা থেকে নিয়মিত বেতন কিংবা পেনশন পেলে এই প্রকল্পের টাকা মিলবে না। দ্বিতীয়ত, পঞ্চায়েত, পৌরসভা বা সরকারি পরিষদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনও শিক্ষক বা শিক্ষা কর্মীরা এই প্রকল্পের টাকা পাবে না। এমনকি যে সমস্ত পরিবারের মহিলারা নিয়মিত আয়কর প্রদান করে, তারাও এই প্রকল্পের আওতায় সুবিধা পাবে না।

আরও পড়ুন: গরমের ছুটির মাঝেই স্কুলে আধার কার্ড আপডেট পড়ুয়াদের

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, যে সমস্ত উপভোক্তাদের নাম সাময়িকভাবে ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে, কিন্তু তারা ইতিমধ্যে এসআইআর ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছে বা নাগরিকত্ব আইনের আওতায় যারা আবেদন জমা দিয়েছেন, তাদের এই প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে। কিন্তু তাদের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা বাতিল না করে সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হবে বলেই খবর। ইতিমধ্যেই চূড়ান্তভাবে যোগ্যদের নতুন তালিকা তৈরি করে তা সরাসরি জেলা শাসকের কাছে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।