প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: পুরনিয়োগ দুর্নীতির মামলায় (Municipal Recruitment Case) গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুর (Sujit Bose)বিরুদ্ধে সক্রিয় হল ইডি! বিচারপতির কাছে ED ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে চাইতেই বৃহস্পতিবার শুনানির দিন কার্যত তুলকালাম বাধল আদালতে। প্রবল বাকবিতণ্ডা শুরু হয়ে গেল দু’তরফের আইনজীবীর মধ্যে।
পাচু রায়ের বয়ানকে হাতিয়ার ED-র
রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার, পুরনিয়োগ দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হওয়া রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেতা সুজিত বসুকে ১৪ দিনের জন্য হেফাজতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর সেক্ষেত্রে মোক্ষম হাতিয়ার করা হয়েছিল দক্ষিণ দমদম পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা পাচু রায়ের বয়ানকে। ইডি আদালতে জানিয়েছিলেন যে, পুরসভায় নিয়োগে বাইরের সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়ায় তাঁর আপত্তি ছিল। এতে নিয়োগে স্বচ্ছতা থাকবে না বলেও মনে হয়েছিল তাঁর। কিন্তু সুজিত এবং সুজিত-অনুগামী কাউন্সিলরেরা বাইরের সংস্থাকে সেই দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে ছিলেন।
মহা শোরগোল আদালতে
ইডির কৌঁসুলি ধীরাজ ত্রিবেদী জানান, তৃণমূল নেতা সুজিত বসুর ‘ঘনিষ্ঠ’ নিতাই দত্তকেও দু’বার ইডিতে তলবও করা হয়। কিন্তু তিনি চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি দিয়ে হাজিরা এড়ান। পরে নিতাই ও সুজিতের বয়ান মিলিয়ে দেখা হবে। কিন্তু প্রাক্তন মন্ত্রীকে এখন জামিন দিলে তথ্যপ্রমাণ লোপাট ও সাক্ষীদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা রয়েছে। পরে সুজিতের আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা ভার্চুয়ালি পাল্টা সওয়াল করেন। কিন্তু সুজিতের আইনজীবীর সওয়ালের সময়ে ধীরাজ তাঁর বক্তব্য জানাতে গেলে সিদ্ধার্থ বারবার বাধা দেন বলে অভিযোগ। শেষে আইনজীবি ধীরাজ ক্ষুব্ধতা প্রকাশ করলে সিদ্ধার্থ ক্ষমা চেয়ে নেন। পরে যদিও নেটওয়ার্কের সমস্যায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল বলে জানান ধীরাজ।
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মীদের বীমা প্রকল্প নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি নবান্নর, সুদের হারও ঘোষণা রাজ্যের
হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ আদালতের
সুজিতের আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা জামিনের আবেদন জানিয়ে বলেন, সিবিআই যেখানে এই মামলার তদন্ত করে চার্জশিট দিয়েছে, সেখানে সুজিতের নাম নেই। তখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সিবিআইয়ের তদন্ত শেষ, সেখানে ইডি কী ভাবে আগের সিদ্ধান্ত নাকচ করতে পারে? আসলে এই গ্রেফতারি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক। কিন্তু সেই যুক্তি খারিজ করে দেন ইডির আইনজীবী। তিনি জানান, তদন্তকারী সংস্থা হাত গুটিয়ে বসে নেই। প্রতিনিয়ত তদন্ত চলছে। নতুন তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। সবশেষে আদালত, আগামী ৪ জুন পর্যন্ত প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।










