পুরসভা অতীত, এবার ২ মাসে ঘর ফাঁকা করার নোটিশ দিলেন তৃণমূলের প্রিয় মানুষ

Published:

TMC Temporary Party Office

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর নির্বাচনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল করেই চলেছে বিজেপি সরকার (Government Of West Bengal)। রাজ্যকে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত করতে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন নব্য নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিকে ক্ষমতাচ্যুত হতেই তৃণমূলের থেকে সরে আসছেন অনেকেই। এবার তৃণমূলের ইএম বাইপাসের ধারে যে অস্থায়ী সদর কার্যালয় বা পার্টি অফিসটি (TMC Temporary Party Office) রয়েছে, তা ২ মাসের মধ্যে ফাঁকা করে দেওয়ার জন্য চিঠি দিল দিদির প্রিয় পাত্র মন্টু সাহা (Montu Saha)।

পার্টি অফিস ফাঁকা করার নোটিস

রাজনীতি বরাবরই নিষ্ঠুর। সুদিনে যাঁরা থাকেন ছায়ার মতো, দুর্দিন আসতেই তাঁরা আশ্রয়টুকু কেড়ে নিতে দ্বিধা করেন না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) রবীন্দ্র জয়ন্তীর অনুষ্ঠানে মাইক ও বসার চেয়ার না পাঠিয়ে আগেই কালীঘাটকে ‘দাগা’ দিয়েছিলেন ‘মডার্ন ডেকরেটিং’-এর মালিক মণ্টু সাহা (Mantu Da) ওরফে মনোতোষ সাহা। এবার তৃণমূলের (TMC) কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে আরও বড় ধাক্কা মমতার একদা আস্থাভাজন ‘মন্টুদা’। স্রেফ মাইক-সাউন্ড পাঠানো বন্ধ করা নয়, এবার ইএম বাইপাসের ধারে তৃণমূলের যে অস্থায়ী সদর কার্যালয় বা পার্টি অফিসটি রয়েছে, তা আগামী ২ মাসের মধ্যে ফাঁকা করে দেওয়ার জন্য চিঠি ধরিয়ে দিলেন মণ্টু সাহা!

নোটিস দিলেন বাড়ির মালিক মন্টু দা

২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের পর পরই দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব পেয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর ঘোষণা করেছিলেন, তপসিয়ায় দলের পুরনো পার্টি অফিস ভেঙে নতুন পার্টি অফিস তৈরি করা হবে। যেমন কথা তেমন কাজ, ছাব্বিশ সালের বিধানসভা ভোট আসার আগে বাইপাস ধাবার পিছনে মেট্রোপলিটন এলাকায় একটি বহুতলকে সাময়িক পার্টি অফিস হিসেবে বেছে নিয়েছিল তৃণমূল। এবার ক্ষমতা পরিবর্তন হতেই পার্টি অফিস ছাড়ার নোটিস পাওয়া গেল। জানা গিয়েছে এই নোটিস নাকি খোদ দিয়েছেন বাড়িটির মালিক মন্টু সাহা ওরফে মনোতোষ সাহা।

‘বিনামূল্যে’ ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন পার্টি অফিস

সূত্রের খবর এই মন্টু সাহা নাকি একসময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত প্রিয়পাত্র ছিলেন। দক্ষিণ কলকাতায় ছোট একটি ডেকরেটিংয়ের ব্যবসা ছিল তাঁর। তৃণমূলের আমলে ‘উত্তীর্ণ’ সভাঘর বা ব্যাঙ্কোয়েটের মতো কয়েকশো কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি লিজ ও ঢালাও কাজের বরাত পাওয়ার বিনিময়েই নাকি এই বহুতলটি তৃণমূলকে সম্পূর্ণ ‘বিনামূল্যে’ ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন মন্টু। কিন্তু এখন তৃণমূল ক্ষমতা থেকে বেরিয়ে যেতেই তড়িঘড়ি সেই বাড়ি ফিরিয়ে নিতে চাইছেন মন্টু। তবে বহুতলটি তৃণমূলকে সম্পূর্ণ ‘বিনামূল্যে’ ব্যবহার করতে দিয়েছিলেন কিনা সেই নিয়ে কোনো সত্যতা যাচাই করেনি India Hood।

আরও পড়ুন: বন্যা নিয়ন্ত্রণে অ্যাকশন মোডে সরকার, DVC বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রীর

সূত্রের খবর, মন্টু সাহা কদিন আগে তৃণমূল নেতৃত্বকে চিঠি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ২ মাসের মধ্যে ওই বাড়িটি সম্পূর্ণ খালি করে দিতে হবে। এই বিষয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও মন্টু সাহা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। আসলে রাজ্যে বিজেপি সরকার আসতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে পুরনো দুর্নীতির ফাইল খুলতে শুরু করেছে এবং একের পর এক এফআইআর-এর নির্দেশ দিচ্ছেন, তাতে হিতের বিপরীত যাতে না হয় তার জন্য আগেভাগে অনেকেই তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব মেনে চলছে।