সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (Kolkata Airport) রানওয়ের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গত তিন দশক ধরে চলে আসা একটি বড় জট অবশেষে কাটতে চলেছে। রাজ্যে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদল এবং নতুন সরকার গঠনের পরেই বিমানবন্দরের অপারেশনাল বা সংবেদনশীল এলাকার ভিতরে থাকা ঐতিহাসিক সেই গৌরীপুর জামে মসজিদ (Kolkata Airport Mosque) স্থানান্তরের প্রক্রিয়া গতি পেল।
এ বিষয়ে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন এবং ভারতীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের আধিকারিকরা যৌথভাবে রানওয়ের ভেতরে অবস্থিত ওই মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন। এরপর বুধবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলা শাসক কার্যালয় মসজিদ কমিটির প্রতিনিধিদের সাথে এ বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে।
কেন ওই মসজিদটি সরানো জরুরী?
আসলে কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ডিরেক্টর বিক্রম সিং জানিয়েছেন যে, এই মসজিদের অবস্থানের কারণেই দীর্ঘদিন ধরে বিমান পরিচালনার একাধিক কারিগরি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হতো। আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনও রানওয়ে থেকে কোনও স্থায়ী কাঠামোর ন্যূনতম দূরত্ব অন্তত ২৪০ মিটার হওয়া বাঞ্ছনীয়। তবে এই মসজিদ বিমানবন্দরের সেকেন্ডারি রানওয়ে থেকে মাত্র ১৬৫ মিটার উত্তরে, আর বিমানবন্দরের সীমানার প্রাচীরের ১৫০ মিটারের ভেতরেই অবস্থিত।
সেক্ষেত্রে রানওয়ের কাছাকাছি মসজিদ থাকায় বিমানের এপ্রোচ পাথ বা নামার পথ সরাতে হয়েছে। আর সেকেন্ডারি রানওয়ের টাচ ডাউন পয়েন্ট ৮৮ মিটার দক্ষিণে সরিয়ে আনার ফলে রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৮৩২ মিটার হয়ে গিয়েছে। যার ফলে Airbus A320 বা Boeing 737 এর মতো ছোট বিমানগুলি নামতে পারলেও Boeing 787 বা Airbus A330 এর মতো বড় বড় আন্তর্জাতিক বিমান রানওয়েতে নামতে পারে না। সবথেকে বড় ব্যাপার, শীতকালে অতিরিক্ত কুয়াশার সময় বিমানবন্দরের প্রধান রানওয়ে বন্ধ থাকলে সেকেন্ডারি রানওয়ে ব্যবহার করা হয়। তবে মসজিদের উপস্থিতির কারণে সেই রানওয়েতে আধুনিক ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম ইনস্টল করা সম্ভব হয়নি, যা ঝুঁকিপূর্ণ।
𝗞𝗼𝗹𝗸𝗮𝘁𝗮 𝗔𝗶𝗿𝗽𝗼𝗿𝘁 𝗠𝗼𝘀𝗾𝘂𝗲 𝘁𝗼 𝗯𝗲 𝘀𝗵𝗶𝗳𝘁𝗲𝗱.
Officials from the district administration and Airports Authority of India visited the 136-year-old Gouripur Jame Masjid, also known as Bankra Mosque, which was once situated in a vast barren land but now finds… pic.twitter.com/QFTGlqeU5z
— The West Bengal Index (@TheBengalIndex) May 22, 2026
আরও পড়ুন: কোনও বলিউড স্টার নয়, সৌরভ গাঙ্গুলির বায়োপিকে বাবার অভিনয় করবেন এই বাঙালি
এদিকে ১৩৬ বছরের পুরনো এই মসজিদটি যখন তৈরি হয়েছিল তখন চারপাশ সম্পূর্ণ জনশূন্য ছিল। পরবর্তী সময়ে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের ফলে এটি বিমানবন্দরের সীমানার ভেতরে চলে আসে। আর বিগত তিন দশকে জ্যোতি বসু থেকে শুরু করে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক একাধিক এটি স্থানান্তরের চেষ্টা করলেও রাজনৈতিক কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দরের অপারেশনাল এরিয়া থেকে মসজিদটি দ্রুত স্থানান্তর করা হবে।










