ছুঁড়েছিল পাকিস্তান, চিনের সেই PL-15 মিসাইল থেকে গোপন ফর্মুলা এল ভারতের হাতে!

Published:

PL-15

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: গত বছর মে মাসে, অপারেশন সিঁদুর চালিয়ে পাক জঙ্গিদের উচিত শিক্ষা দিয়েছিল ভারত (India)। একেবারে ইসলামাবাদের বুকের উপর দাঁড়িয়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিল ভারতীয় বায়ুসেনা। সেই সময় ভারতীয় বায়ুসেনার হাত ধরে পাকিস্তানের একের পর এক যুদ্ধবিমান এবং ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করেছিল নয়া দিল্লি। সেই তালিকায় ছিল চিনের হাতে তৈরি PL-15 রাডার গাইডেড মিসাইল (PL-15 Missile)। পাকিস্তানের এই চিনা ক্ষেপণাস্ত্রটিকে আকাশে প্রতিহত করার পর সেটি পড়েছিল পাঞ্জাবের হুশিয়ারপুরে। পরবর্তীতে সেই ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বেশকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং গবেষণা চালান ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। তাতেই হাতে এসেছে বড় তথ্য।

চিনা ক্ষেপণাস্ত্রের সমস্ত রহস্য আবিষ্কার করলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা

গত বছর, অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন পাকিস্তানের ছোঁড়া চিনা মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ পেয়েছিলেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। পরবর্তীতে সেই ধ্বংসাবশেষ নিয়ে গবেষণা চালান তাঁরা। আর তাতেই উঠে এসেছে একাধিক তথ্য। বিজ্ঞানীরা বুঝতে পেরেছেন, কীভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য বস্তুকে সনাক্ত করে এবং ট্র্যাক করে। শুধু তাই নয়, ফরাসি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ভারতীয় গবেষকরা এই ক্ষেপণাস্ত্রের গোপন তথ্যও পেয়ে গিয়েছেন।

ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, PL-15 ক্ষেপণাস্ত্রের গোপন কোডকে ভারতের ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুটের সঙ্গে যুক্ত করেছে নয়া দিল্লি। দেশীয় যুদ্ধবিমান তেজস এমকে 1 এ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে ওই যুদ্ধের স্যুটগুলি আপডেট করে সুখোই 30 জেটে ইনস্টল করা যাবে বলেই জানান গবেষকরা। বলাই বাহুল্য, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীন খুব সহজেই ভারতীয় বায়ুসেনা এই চিনা ক্ষেপণাস্ত্রটিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিল।

রিপোর্টে বলা হচ্ছে, প্রতিরক্ষা গবেষণা এবং উন্নয়ন সংস্থা বা DRDO অ্যাসট্রা মার্ক 2 প্রোগ্রামে PL-15 ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নত বৈশিষ্ট্য গুলিকে অন্তর্ভুক্ত করবে। চিনে তৈরি এই ক্ষেপণাস্ত্রের রহস্যগুলি ডিকোড করা ভারতীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এর ক্ষমতা এবং সীমানা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেবে। এর ফলে চিনের ক্ষেপণাস্ত্রের যাবতীয় গোপন তথ্য এবং কৌশল জেনে পরবর্তীতে ভারত পালটা কৌশল এবং প্রক্রিয়া চালাতে পারবে।

অবশ্যই পড়ুন: এক ধাক্কায় ৭.৫ গুণ বাড়ছে পেনশন? জানাল EPFO

ইউরেশিয়ান টাইমসের এক রিপোর্ট অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই নাকি ফ্রান্স এবং জাপান PL-15 ক্ষেপণাস্ত্রর গোপনীয়তা জানার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। আগ্রহ দেখিয়েছে আমেরিকাও। প্রতিটি দেশই চিনের ক্ষেপণাস্ত্রের রাডার, মোটর কাঠামো এবং অন্যান্য প্রযুক্তিক বিষয়গুলি সম্পর্কে জানতে আগ্রহী। সব মিলিয়ে বলাই যায়, চিনের ক্ষেপণাস্ত্র থেকে অনেক গোপন তথ্য হাতে এসেছে ভারতের। এ নিয়ে বিশিষ্ট প্রতিরক্ষা সাংবাদিক বিষ্ণু সোম নিজের এক্স হ্যান্ডেলে জানিয়েছেন, প্রায় ডানপন্থী চিনা PL 15 ক্ষেপণাস্ত্রের পুনরুদ্ধার গোয়েন্দা দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতের জন্য এক বিরাট সাফল্য। এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার পর সেটি চালু করা হবে। এতে আগামী বছরগুলিতে ভারতীয় বিমান বাহিনী নানান দিক থেকে সুবিধা পাবে। আমেরিকাও এই ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে তদন্তের জন্য আবেদন করতে পারে।