সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বুধবার ভোর পর্যন্ত ডেডলাইন দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট (Donald Trump)। ইরান যদি হরমুজ না খুলে দেয়, তাহলে বড়সড় হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে কাজ হল কোথায়? দুই সপ্তাহের সংঘর্ষবিরতিতে সিলমোহর দিল তেহরান ও ওয়াশিংটন (Iran–United States War)। তাহলে কি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ থামতে চলেছে? আজ ভোরে এমনটাই ঘোষণা করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নাকি দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে সাঁই দিয়েছে! কী বললেন ট্রাম্প?
যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা ট্রাম্পের
সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প আজ ভোরে লিখেছেন, “পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শেহবাজ শরীফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা আমার কাছে অনুরোধ জানিয়েছিল, যেন আজ রাতে ইরানের উপর হামলা আমি স্থগিত রাখি। প্রস্তাব অনুযায়ী, আমি দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা করছি। এই সময়সীমার মধ্যে ইরানের উপর কোনও বোমাবর্ষণ বা আক্রমণ করা হবে না। এটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি। আমাদের সমস্ত সামরিক লক্ষ্য ইতিমধ্যেই সাফল্য পেয়েছে। তাছাড়া ইরান আর মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই চুক্তির জন্য আমরা বদ্ধপরিকর। আমি ইতিমধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে ১০ দফা প্রস্তাব পেয়েছি। আমরা বিশ্বাস করছি যে আলোচনার ভিত্তিতে তা কার্যকর হবে। অতীতে যে সমস্ত বিষয় নিয়ে মতপার্থক্য ছিল তার সবকটি বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছনোর জন্য আগামী দুই সপ্তাহ আলোচনা চালিয়ে যাব আমরা ইরানের সঙ্গে।”
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, আগামী দুই সপ্তাহ ইরানে কোনও রকম সামরিক হামলা চালাবে না আমেরিকা। আর শর্তসাপেক্ষ হরমুজ মুক্ত করতে হবে তেহরানকে। এমনকি বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশ বৈঠকে বসবে। এমনকি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইজরায়েলও সম্মতি জানিয়েছে বলে খবর। তবে বলে রাখার বিষয়, তেহরানের তরফ থেকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল যে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেই তারা হরমুজ পুরোপুরি মুক্ত করবে। এমনকি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস জানাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যেহেতু ট্রাম্প ডেডলাইন বেঁধে দিয়েছিল, তাই চিনের হস্তক্ষেপে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান এবং আমেরিকা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় এবং ইরানের সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনিই অনুমোদন দেন।
আরও পড়ুন: বুমরাহদের পিটিয়ে বিরাট রেকর্ড গড়লেন ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী
এ বিষয়ে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘচি এক্স হ্যান্ডেলে লিখেছেন, পাক প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ রক্ষা করার জন্য আমেরিকার সঙ্গে আমরা যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছি। আর ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে আমি স্পষ্ট ঘোষণা করছি, যদি ইরানের উপর হামলা বন্ধ হয়, তাহলে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী হামলা করা বন্ধ করবে। আর আগামী দুই সপ্তাহের জন্য আমরা হরমুজ খুলে যাচ্ছি। কিন্তু হ্যাঁ, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে জাহাজগুলোকে সমন্বয় সাধন করতে হবে। আর তেহরানের সঙ্গে যে সমস্ত দেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখবে, তারাই হরমুজ দিয়ে চলাচল করতে পারবে।












