ডলারের বিপরীতে আরও শক্তিশালী হল ভারতীয় রুপি? দেখুন এখনকার রেট

Published:

Indian Rupee

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সপ্তাহের শুরুতেই ভারতীয় রুপির (Indian Rupee) বাজারে পতন। সোমবার সকালে মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে রুপির দাম ফের কিছুটা তলানিতে ঠেকল। এদিন বাজার খোলার সময় প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়াল ৯৩.১৭ টাকা, যা আগের সেশনে ছিল ৯২.৯৮ টাকা। যদিও টানা উত্থানের পর সামান্য পতন হয়েছে আজ। বিশেষ করে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (Reserve Bank of India) কঠোর অবস্থান আর বাজারে ফাটকা লেনদেনের লাগাম টানার পরেই রুপি মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াচ্ছিল। গত এক সপ্তাহে ভারতীয় টাকা প্রায় ২% শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু আগামীদিন কী হবে? আবারও কি পতনের ধারা দেখা যাবে?

কেন শক্তিশালী হচ্ছে ভারতীয় টাকা?

বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিগত কিছুদিন টাকার এই উত্থানের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, গত এক দশকের মধ্যে সবথেকে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আরবিআই। অফশোর নন-ডেলিভারেবল ফরোয়ার্ড বাজারে অতিরিক্ত ফাটকা লেনদেন রুখার জন্য আরবিআই যে নির্দেশিকা জারি করেছিল, তার জন্য ব্যাঙ্কগুলি ডলারের মজুদ কমাতে শুরু করেছে। এছাড়া আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে ব্যাঙ্কগুলোকে তাদের পজিশন সামলানোর সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে বাজারে ডলারের যোগান বাড়ছে আর টাকা আরও শক্তিশালী হচ্ছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা তাদের পুরনো অবস্থান থেকে সরে আসার কারণে মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের অফশোর পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এর ফলে সরাসরি প্রভাব পড়ছে মুদ্রার বাজারে।

এ বিষয়ে সিআর ফরেক্স অ্যাডভাইজরির ম্যানেজিং ডিরেক্টর অমিত পাবারি জানিয়েছেন যে, আরবিআই এর পদক্ষেপগুলি এখন ভারতীয় রুপির বাজারে স্পষ্টভাবে কাজ করছে। ১০ এপ্রিলের ডেডলাইনের আগেই ব্যাঙ্কগুলো যেভাবে ডলার ছেড়ে দিয়েছে, তাতে টাকার মান আরও বেড়ে ৯১.৫০ থেকে ৯২.০০ এর মধ্যে পৌঁছতে পারে। কিন্তু হ্যাঁ, বিশ্ববাজারে অস্থিরতা নিয়ে তিনিই কিছুটা উদ্বেগের সুর চড়িয়েছেন।

আরও পড়ুন: LPG সিলিন্ডার কেনায় নতুন নিষেধাজ্ঞা, আর মিলবে না এখান থেকে

আসলে টাকার মূল্য বাড়লেও বিনিয়োগকারীদের ভাবাচ্ছে দুটি বিষয়। প্রথমত, আজ থেকেই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটরি পলিসি কমিটির বৈঠক শুরু হচ্ছে। আর আগামী ৮ এপ্রিল এই বৈঠকের ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুমান করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক এবার সুদের হারে সেরকম কোনও পরিবর্তন আনবে না। দ্বিতীয়ত, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আবারও ১ শতাংশ বেড়ে ১১০ ডলার প্রতি ব্যারেল পৌঁছে গিয়েছে। আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন করে ডেডলাইন দিয়েছে। এমনকি হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগুলোতে হামলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন ট্রাম্প। আর এই যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়লে আবারও টাকার উপর প্রভাব পড়তে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

google button