সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির মধ্যে অন্যতম হল কৃষক বন্ধু (Krishak Bondhu Scheme)। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের কৃষকদের প্রতি বছর আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এবারের বাজেটে এই কৃষক বন্ধু প্রকল্প নিয়ে বিরাট ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। যাদের নিজস্ব চাষযোগ্য জমি নেই, তারাও এই প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পাবে। আর বছরে ৪০০০ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া পাবে তারা। কিন্তু তাদের জন্য কী কী ডকুমেন্ট লাগবে?
ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের জন্য কৃষক বন্ধু প্রকল্প
প্রসঙ্গত, এবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত ক্ষেত মুজুররা এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবে। আর যাদের চাষযোগ্য জমি নেই এবং সেই কারণে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতায় এতদিন পর্যন্ত সুবিধা পাননি বা ভাগচাষি হিসেবে নথিভুক্ত নন, তারাও এবার থেকে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে। রবি এবং খারিফ, দুই মরসুমেই সমানভাবে ২০০০ টাকা করে দুটি কিস্তিতে তাদেরকে প্রদান করা হবে। আর নির্ধারিত অর্থ সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। এমনকি আগামী এপ্রিল মাস থেকেই এই প্রকল্পের সুবিধা কার্যকর হচ্ছে।
কারা পাবে এই প্রকল্পের সুবিধা?
নতুন নিয়মে যা বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের সুবিধা উপভোগ করতে গেলে অবশ্যই কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। সেগুলি হল—
- আবেদনকারী কৃষককে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
- যাদের কৃষি জমি নেই বা চাষযোগ্য জমি নেই এবং সেই কারণে কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আওতাভুক্ত নন, তারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে।
- ভাগচাষি হিসেবে নিজের নাম নথিভুক্ত থাকা চলবে না।
কীভাবে আবেদন করতে হবে?
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে অফলাইনের মাধ্যমে আবেদন করা যাবে। এর জন্য রাজ্য সরকারের তরফ থেকে দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা স্বনির্ভর বাংলা ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে। আর সহকারী কৃষি আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে সেখানে আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশন ও অনুমোদনের কাজ চলবে। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ হলে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ডিবিটি-র মাধ্যমে টাকা পাঠানো হবে।
আরও পড়ুন: তৈরি হবে নতুন টানেল, ব্রিজ! আরও কম সময়ে হাওড়া থেকে মুম্বই, বড় পদক্ষেপ রেলের
কী কী ডকুমেন্ট দরকার হবে?
ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের এই প্রকল্পে আবেদন করার জন্য যে ডকুমেন্ট লাগবে সেগুলি হল—
- পরিচয় প্রমাণপত্র হিসেবে আধার কার্ড,
- ভোটার কার্ড,
- ব্যাঙ্কের পাসবুকের প্রথম পাতার জেরক্স,
- আধার কার্ড এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বর,
- আবেদনকারীর সাম্প্রতিক তোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি এবং স্বাক্ষর,
- ক্ষেতমজুর সংক্রান্ত স্বঘোষণাপত্র আর আধারেরর তথ্য ব্যবহারের সম্মতিপত্র।











