সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ইসলামাবাদে ইরান এবং আমেরিকার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিশ্বের তেলের বাজার (Fuel Price Hike)। ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ার কারণে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ইরানি বন্দরগুলিতে অবরোধ শুরু ঘোষণা দেওয়ার পরেই সোমবার এশিয়ার বাজার খুলতে অপরিশোধিত তেলের দাম একধাক্কায় ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেল। পরে দেশের বাজারে আবারও তেলের দাম বাড়ার সম্ভাবনা।
লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে তেলের দাম
সোমবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বিরাট লম্ফন দেখা যায়। ব্রেন্ট ক্রুড ৭.৩% ব্যারেল প্রতি বেড়ে নতুন রেট দাঁড়ায় ১০২.৩০ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে ডব্লিউটিআই ব্যারেল প্রতি ৮.৭% বেড়ে নতুন দাম দাঁড়ায় ১০৪.৯৪ ডলার। উল্লেখ করার বিষয়, গত বুধবার দুই সপ্তাহের সামরিক যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালী তুলে দেওয়ার খবরে তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। তবে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর বাজারে আবারও ঊর্ধ্বগতি।
এদিকে রবিবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে, আমেরিকা হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী যে কোনও জাহাজ যারা ইরানি বন্দরে ঢুকবে বা বেরোবে, তাদেরকেই ব্লক করবে। এমনকি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়ে দেয়, সোমবার আন্তর্জাতিক সময় দুপুর দু’টো থেকে এই অবরোধ শুরু হবে যা ভারতীয় সময় অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা। আর এই অবরোধ মূলত ইরানি বন্দরগুলোর উপরেই কার্যকর হবে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে সম্পর্কহীন অন্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে মার্কিন নৌবাহিনী কোনও রকম বাধা দেবে না।
আরও পড়ুন: শেয়ার বাজারে বিরাট ধস, ক্ষতি হল ৮ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি
উল্লেখ করার বিষয়, বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়। আর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই এই জলপথ কার্যত স্থগিত হয়ে পড়ে। কোনও দেশের জাহাজ যেখান দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না। যদিও ভারত এবং মালয়েশিয়ার মতো বেশ কিছু দেশ বিশেষ আলোচনার মাধ্যমে তাদের জাহাজ চলাচলের অনুমতি পেয়েছিল। কিন্তু সার্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা এখনো পর্যন্ত বিপর্যস্ত। আর যদি তেলের দাম এইভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে দেশের বাজারে পেট্রোল-ডিজেলের দাম ফের ঊর্দ্ধগতিতে ঠেকবে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।












