গরমে বিদ্যুতের বিল হবে অর্ধেক, মিলবে ৭৮ হাজার টাকা ভর্তুকি! দারুণ স্কিম কেন্দ্রের

Published:

PM Surya Ghar Yojana

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গরমের সময় যেন বিদ্যুতের বিল সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে যায়। এয়ার কন্ডিশনার থেকে শুরু করে ফ্যান, রেফ্রিজারেটর বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক জিনিসপত্রের ক্রমাগত ব্যবহারে মাস শেষে মোটা অংকের বিল চাপে মধ্যবিত্তদের উপর। তবে এই সমস্যার সমাধান করতে কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছে সূর্য ঘর যোজনা (PM Surya Ghar Yojana), যেখানে কম খরচেই ছাদে সোলার প্যানেল বসাতে পারবেন। এমনকি কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে এই প্রকল্পের আওতায় মোটা অংকের ভর্তুকিও মেলে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল জনগণকে সোলার প্যানেল নেওয়াতে উৎসাহিত করা। বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।

এই স্কিমের নিয়মগুলো কী কী?

প্রথমেই জানিয়ে রাখি, যে কোনও ব্যক্তি তার বাড়ি থেকে ছোট দোকান চালায় বা বাড়ির কাজে ইলেকট্রিক ব্যবহার করে, শুধুমাত্র তিনিই এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারবে। তবে যদি দোকানটি সম্পূর্ন রূপে বাণিজ্যিকভাবে বা পৃথক বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে থাকে, তাহলে তিনি এই প্রকল্পের আওতায় ভর্তুকি পাবেন না। আর সৌর প্যানেল স্থাপনের ক্ষেত্রে কোনও রকম বিধিনিষেধ না থাকলেও গোটা খরচ ওই মালিককেই বহন করতে হবে।

কত টাকা ভর্তুকি মেলে?

প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনার আয়তায় সৌরশক্তি ক্ষমতার উপর ভিত্তি করেই মূলত ভর্তুকি দেওয়া হয়ে থাকে। সেই সূত্রে, ১ থেকে ২ কিলোওয়াট পর্যন্ত সিস্টেমের জন্য প্রতি কিলোওয়াটে ৩০,০০০ টাকা থেকে ৬০,০০০ টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়। ২ থেকে ৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত সিস্টেমের জন্য প্রতি কিলোওয়াটে ৬০,০০০ থেকে ৭৮,০০০ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হয়। আর ৩ কিলোওয়াটের উপরে ৭৮,০০০ টাকা করে ভর্তুকি দেওয়া হয়।

কারা আবেদন করতে পারবে?

এই স্কিমে আবেদন করতে গেলে অবশ্যই পরিবারের সদস্যদের ভারতীয় নাগরিক হতে হবে। পাশাপাশি অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে বাড়ির মালিক হতে হবে, যার ছাদ সৌর প্যানেল স্থাপনের জন্য উপযুক্ত। আর পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ থাকতে হবে এবং সৌর প্যানেলের জন্য কোনও ভর্তুকি আগে গ্রহণ করা চলবে না।

আরও পড়ুন: লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত! বাংলার মহিলাদের জন্য গঠন হবে ৫৭০০ কোটির তহবিল

কীভাবে আবেদন করবেন?

এই স্কিমে সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। এর জন্য নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করুন—

  • প্রথমে এই প্রকল্পের সরকারি অফিসে ওয়েবসাইটে ভিজিট করুন।
  • তারপর আপনার রাজ্য, বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি, বিদ্যুৎ গ্রাহকের নম্বর এবং মোবাইল নম্বর ও ইমেইল লিখুন।
  • এরপর মোবাইল নম্বরে আসা ওটিপি দিয়ে লগইন করুন।
  • এরপর ফর্ম অনুযায়ী ছাদে সোলারের জন্য আবেদন করুন।
  • আবে আবেদনপত্রটি সমস্ত নিজের ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে পূরণ করুন।
  • এরপর DISCOM এর অনুমোদনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আর অনুমোদন পাওয়ার পর আপনার DISCOM নিবন্ধিত যে কোনও বিক্রেতার কাছ থেকে প্ল্যান্ট ইনস্টল করতে পারবেন।
  • ইনস্টলেশন শেষ হয়ে গেলে প্ল্যান্টের বিবরণ জমা দিতে হবে। আর নেট মিটারের জন্য আবেদন করতে হবে।
  • মিটার স্থাপন এবং DISCOM প্রদর্শনের পর তারা পোর্টাল থেকে কমিশনিং সার্টিফিকেট তৈরি করে দেবে।
  • আর কমিশনিং রিপোর্ট পাওয়ার পর পোর্টালের মাধ্যমে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ৩০ দিনের মধ্যেই ভর্তুকি পৌঁছে যাবে।

তবে এখানে আবেদন করার জন্য কিছু ডকুমেন্ট দরকার পড়ে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল পরিচয়ের প্রমাণপত্র, ঠিকানার প্রমাণপত্র, বিদ্যুতের বিল এবং ছাদের মালিকানার সার্টিফিকেট।

google button