বাবা নেই, মা মিড-ডে মিল রাঁধুনি, UPSC ক্র্যাক করে ছেলে আজ IAS

Published:

UPSC Success Story

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাফল্য কখন কার কাছে কীভাবে ধরা দেবে কেই বা বলতে পারে। এমনিতেই ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বিশ্বের সবথেকে কঠিন পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত। তবে যদি দৃঢ় সংকল্প আর কঠোর পরিশ্রম থাকে, তাহলে যে সব বাধা অতিক্রম করা সম্ভব তা আবারও প্রমাণ করে দিলেন ডংরে রেভাইয়া (Dongre Revaiah)। হ্যাঁ, অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরনোর দশা, তার উপর বাবার মৃত্যু, সব প্রতিকূলতাকে জয় করেই তিনি আজ সফল আইএএস অফিসার (UPSC Success Story)।

দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করেই সাফল্য

রিপোর্ট অনুযায়ী, ডংরে রেভাইয়ার জন্ম হয় অতি সাধারণ পরিবারে। ছোটবেলা থেকেই তাঁর অভাব নিত্যসঙ্গী ছিল। দীর্ঘ অসুস্থতার পর তাঁর বাবা মারা গেলে সংসারের গোটা দায়িত্ব তাঁর মায়ের কাঁধে এসে পড়ে। সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দিতে এবং তাঁদের পড়াশোনা চালু রাখার জন্য মা একটি সরকারি স্কুলে মিড-ডে মিল রান্নার কাজ শুরু করেন। আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ ছিল যে দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটানো কার্যত দায় ছিল। কিন্তু তাঁর মা বিশ্বাস করতেন যে, একমাত্র শিক্ষাই তাঁদের ভাগ্য বদলাতে পারে। তাই চরম দারিদ্রতার মধ্যেও তিনি সন্তানের পড়াশোনা থামাতে দেননি।

প্রসঙ্গত, রেভাইয়া ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। নিজের মেধার জেরেই তিনি আইআইটি-জেইই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং আইআইটি মাদ্রাজে পড়ার সুযোগ পান। আর এটাই তাঁর জীবনের সবথেকে বড় মোড় ছিল। কিন্তু হ্যাঁ, বিপত্তি দেখা যায় ভর্তির খরচ নিয়ে। কারণ, এই ইনস্টিটিউটে পড়ার খরচ চালানো তাঁর পরিবারের পক্ষে যে সম্ভব ছিল না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু সেই সংকটময় মুহূর্তে জেলা প্রশাসন পাশে দাঁড়ানোর কারণে তাঁর স্বপ্ন সফল হয়। সেখান থেকে পড়াশোনা শেষ করে রেভাইয়া সর্বভারতীয় স্তরে GATE পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন এবং হায়দ্রাবাদে একটি ভালো বেতনের চাকরিও পান। তবে অনেকের কাছে এটা বড় সাফল্য মনে হলেও রেভাইয়ার লক্ষ্য ছিল আরও বড়।

আরও পড়ুন: দিনেই নামবে আঁধার, ৫০ কিমিতে ঝড়! শিলাবৃষ্টির আশঙ্কা ৫ জেলায়, আজকের আবহাওয়া

চাকরির সঙ্গে ইউপিএসসির প্রস্তুতি

প্রসঙ্গত, হাতে মোটা মাইনের চাকরি থাকা সত্ত্বেও রেভাইয়া তাঁর আসল স্বপ্নকে কখনো ভোলেননি। তিনি চেয়েছিলেন প্রশাসনিক সার্ভিসে যোগ দিয়ে সমাজে বড় স্তরে কাজ করতে। সেই কারণে ফুলটাইম চাকরির কঠিন চাপের মধ্য দিয়েও তিনি ইউপিএসসি-র জন্য কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যান। আর সারাদিন কাজের পর ক্লান্ত শরীরে গভীর রাত পর্যন্ত তিনি পড়াশোনা করতেন। আর তাঁর দীর্ঘ পরিশ্রম অবশেষে সার্থক হয় ২০২২ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায়। সেখানে তিনি সর্বভারতীয় স্তরে ৪১০ তম র‍্যাঙ্ক অর্জন করেন। তবে এই সাফল্য শুধুমাত্র তাঁর নিজের নয়, বরং মায়ের দীর্ঘ আত্মত্যাগ আর সংগ্রামের পুরস্কার। যে মা অন্যের বাচ্চাদের জন্য মিড-ডে মিল রান্না করে নিজের ছেলেকে বড় করেছেন, সেই ছেলের সাফল্যে গোটা দেশের চোখে জল। আর তিনিই এখন সফল আইএএস অফিসার।

google button