অনন্যা সরকার, তেলেঙ্গানা: নামকরা আইআইটি (IIT) থেকে পাস করে বছরে ২৮ লক্ষ টাকার প্যাকেজ পাওয়া এখনকার দিনে খুব একটা কঠিন নয়। যেকোনো আইআইটিয়ান এই বেতনের সাথে সুখী ও স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন কাটাতে পারেন। কিন্তু এখন যুব সম্প্রদায়ের চিন্তাভাবনা পাল্টাচ্ছে, তারা গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নিজেদের প্রচেষ্টায় কিছু তৈরি করাতে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠছেন। তেলেঙ্গানার আইআইটি পাস সাইকেশ গৌড়ের কাহিনীটিও অনেকটা এরকমই (Success Story of Saikesh Goud)। তিনি কর্পোরেট সংস্থায় ২৮ লক্ষ টাকার লোভনীয় প্যাকেজ ছেড়ে এখন পোল্ট্রির ব্যবসা চালিয়ে প্রতি মাসে ১ কোটি টাকারও বেশি আয় করছেন। আসুন তার এই ব্যবসা শুরুর গল্পটি জেনে নেওয়া যাক।
কর্পোরেট চাকরি ছেড়ে শুরু মুরগির ব্যবসা
সাইকেশ গৌড় আইআইটি বারাণসী (IIT-BHU) থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে বার্ষিক ২৮ লক্ষ টাকার প্যাকেজে সফটওয়্যার প্রফেশনাল হিসেবে যোগ দেন এক কর্পোরেট সংস্থায়। চাকরি ভালো চললেও, নিজের ব্যবসা শুরু করার ভাবনাটা সাইকেশের মাথায় সবসময়ই ঘুরপাক খেত। এই সময়ে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় হেমাম্বর রেড্ডি এবং মোহাম্মদ সামি উদ্দিনের। হেমাম্বর তখন পোল্ট্রি ও মিট ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু করার চেষ্টা করেছেন। তাঁর কথা শুনে সাইকেশ বুঝতে পারেন ভারতের রিটেইল মিট সেক্টরে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ঝুঁকি নিয়েই উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে তিনি ব্যবসার জগতে পা রাখেন।
এই ব্যবসাটিকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে স্থায়িত্বের সাথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য, তাঁরা তিন বন্ধু হায়দ্রাবাদের আইসিএআর-ন্যাশনাল মিট রিসার্চ ইনস্টিটিউটে একটি ইনকিউবেশন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। এখান থেকে তাঁরা স্বাস্থ্যসম্মত প্রক্রিয়াকরণ, রিটেইল সেন্টার এবং গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্র্যাকটিসেস (GMP) অনুসরণের বিষয়ে প্রযুক্তিগত নির্দেশনা ও প্রশিক্ষণ পান।
এরপর ২০২০ সালে তাঁরা তিনজনে মিলে চালু করেন ‘কান্ট্রি চিকেন কোম্পানি’ (Country Chicken Company)। এই ব্যবসা শুরুর মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রচলিত ও অস্বাস্থ্যকর মাংসের দোকানগুলির ভাবমূর্তি পাল্টানো। তাঁরা এমন একটি দোকান তৈরি করতে উদ্যোগী হন, যা হবে একটি আধুনিক সুপারমার্কেটের মতো। এখান থেকে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখে গ্রাহকদের উচ্চমানের দেশি মুরগি সরবরাহ করা হবে।
উচ্চ বেতনের চাকরি ছেড়ে এই ব্যবসা শুরু করার প্রথমদিকে অনেক ঠাট্টা, কটাক্ষ শুনতে হয়েছে সাইকেশকে। তবে কারও কথায় কান না দিয়ে ব্যবসায় সম্পূর্ণ মনোযোগ ঢেলে দেন তিনি। তাঁরা একটি অভিনব প্যাকেজিং কৌশল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। এটিকে বিশেষভাবে তৈরি ‘চিকেন প্রোডাক্ট গিফট আইটেম’ হিসেবে বিক্রি করতে শুরু করেন। এই প্রিমিয়াম ও পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিংটি গ্রাহকদের মন জয় করে নেয় এবং তাঁদের ব্র্যান্ডের জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুনঃ উত্তরবঙ্গের নতুন লুকোনো রত্ন, বর্ষায় ঘুরে আসুন ‘তুরিয়ক’
হায়দ্রাবাদের প্রগতি নগর এবং কুকটপল্লীতে ভারতের প্রথম খাঁটি দেশি মুরগির দোকান খোলার পর থেকে কান্ট্রি চিকেন কোম্পানিকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। কোম্পানিটি দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলিতে ১৫,০০০-এরও বেশি পোল্ট্রি ফার্মের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, যাদের কাছ থেকে তারা সরাসরি ভালো দামে মুরগি কেনেন, ফলে ফার্মাররাও এর থেকে লাভবান হন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে কোম্পানিটির মাসিক আয় ছিল মাত্র ৩ লক্ষ টাকা। সেখানে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসের মধ্যে রাজস্ব বেড়ে মাসিক ১.২ কোটি টাকারও বেশি হয়ে যায়। জানা গেছে ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে কোম্পানিটির মোট আয় ছিল ৫ কোটি টাকা।










