অলির দুর্গে জয়, নেপালের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন ভারতবিরোধী র‍্যাপার! কে এই বলেন্দ্র শাহ?

Published:

Balendra Shah

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নেপালের রাজনীতিতে (Nepal Politics) এবার বিরাট বদল। সাম্প্রতিক নির্বাচনের ভোট গণনায় দেখা যাচ্ছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলিকে পেছনে ফেলেই এগিয়ে গেলেন কাঠমাণ্ডুর প্রাক্তন মেয়র বলেন্দ্র শাহ (Balendra Shah)। বিশেষ করে অলির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ঝাপা কেন্দ্রেই তিনি তাঁকে পিছনে ফেলেছেন। হ্যাঁ, বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হওয়ার পরেই রাত থেকে শুরু হয়েছে গণনা। আর গণনার শুরুতেই যা ফলাফলের ইঙ্গিত রয়েছে, তাতে নেপালের রাজনীতিতে এবার নতুন অধ্যায় সূচনা হবে বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

কে এই বলেন্দ্র শাহ?

জানিয়ে রাখি, বলেন্দ্র শাহ একজন জনপ্রিয় র‍্যাপার হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ করেন। পড়াশোনার ক্ষেত্রে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্যও রয়েছে। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়, হিমালয়ান হোয়াইট হাউস ইন্টারন্যাশনাল কলেজ থেকে তিনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। তারপর কর্নাটকের বিশ্বেশ্বরায়া টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। আর বর্তমানে কাঠমাণ্ডু ইউনিভার্সিটিতে তিনি পিএইচডি করছেন। পাশাপাশি তিনি একসময় টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২২ সালে তিনি নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুতে মেয়র হিসেবে নিয়োগ নির্বাচিত হন।

এদিকে নেপালের তরুন প্রজন্মের মধ্যে বলেন্দ্র শাহ জনপ্রিয় একজন নাম। বিশেষ করে সাম্প্রতিক চলা জেন-জি আন্দোলনের সময় তিনি প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের সমর্থন জানিয়েছিলেন। আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা দ্রুতই বড় রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছিল। সেই আন্দোলনের পরেই নেপালে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয় এবং পরে কেপি শর্মা অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। এরপর অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন নেপাল সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুশীলা কারকি।

বলে রাখার বিষয়, ঝাপা কেন্দ্রকে দীর্ঘদিন ধরেই কেপি শর্মা অলির শক্তপোক্ত ঘাঁটি হিসেবে ধরা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সেই কেন্দ্রেই প্রাথমিকভাবে এগিয়ে রয়েছেন বলেন্দ্র শাহ। আর যদি শেষ পর্যন্ত এই ফলাফল বজায় থাকে, তাহলে নেপালের রাজনীতিতে বিরাট চমক আসবে তাও বলার অপেক্ষা রাখে না। অনেকেই মনে করছেন যে, ভবিষ্যতে তাঁকেই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত করা হতে পারে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধের প্রভাব গ্যাসে! কলকাতায় বন্ধ হল LPG-র গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা

ভারত-নেপাল সম্পর্ক নিয়ে উদ্বেগ

এদিকে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে আরও এক জল্পনা। কারণ, বলেন্দ্র শাহকে অনেকেই ভারত বিরোধী বলে মনে করে থাকেন। অতীতে তিনি ভারতের কিছু অঞ্চলকে গ্রেটার নেপালের অংশ হিসেবে দাবি করেন। এমনকি ২০২৩ সালের জুন মাসে নিজের দফতর থেকে একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছিলেন তিনি। আর সেখানে ভারতের কিছু এলাকাকে নেপালের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছিল, যা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিতর্ক হয়। তবে এ নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে। দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রনধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন যে, ভারত সব সময় নেপালের শান্তি এবং উন্নয়ন চায়। নতুন সরকার গঠিত হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

google button