বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: আরও নিঃসঙ্গ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। নেত্রীর উপর অভিমান থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদ ছেড়ে দিয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। বলাই বাহুল্য, তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সহ একাধিক পদে ছিলেন চন্দ্রিমা। দলের ভরাডুবির পর তাঁর উপর আস্থা বাড়িয়েছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই দিদির হাতটাই একপ্রকার ছেড়ে দিলেন সুব্রত মুখার্জির বোন। নিজের এমন কঠিন সিদ্ধান্তের নেপথ্যে কারণও ব্যাখ্যা করলেন তিনি।
মমতার এক কথাতেই সব শেষ!
তৃণমূলের সমস্ত পদ ছেড়ে দেওয়ার পরই চন্দ্রিমার অবস্থান নিয়ে উঠছিল প্রশ্ন। আর তা স্পষ্ট করতেই মমতার দীর্ঘদিনের সঙ্গী বলে দিলেন, “তৃণমূলের একেবারে শুরু থেকে না থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে দলটার সাথে রয়েছি আমি। একজন সৈনিক হিসেবে কাজ করে এসেছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আমার পূর্ণ সম্মান রয়েছে। এমন কোনও দিন হয়নি আমি তৃণমূল ভবনে যাইনি। 22 জুন এবং পহেলা জুলাই বাদ দিয়ে প্রতিদিন অফিসে গেছি।”
এদিন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এও বললেন, “আমি দলের জন্য কী করেছি সেটা কর্মীরা স্বীকার করবেন।” ঋতব্রত তৃণমূলের মেট্রোপলিটন ভবনের দখল নেওয়ার ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে চন্দ্রিমা বলেছিলেন, “সেদিন একটা ঘটনা ঘটেছে। আমি তখন তৃণমূল ভবনেই ছিলাম। কয়েকজন বিধায়ক ঢুকলেন। আমি তৎক্ষণাৎ ওখান বেরিয়ে আসি। মমতাদি আমাকে ফোন করতে বলেছিলেন। আমি বাড়ি ফিরে ফোন করলে মমতাদি আমায় বললেন, তৃণমূল ভবনটা ওদের হাতে তুলে দিয়ে আসলে? আমি শুধু বললাম দিদি আপনি আমাকে এই কথা বলতে পারলেন?”
অবশ্যই পড়ুন: বৈভবের অভিষেকের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছেন টিম ইন্ডিয়ার এই দুই ব্যাটার
চন্দ্রিমা খুব পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, নেত্রীর কাছ থেকে এমন কথা শোনার পরই তিনি মনস্থির করে নিয়েছিলেন তৃণমূলের আর কোনও দায়িত্বে থাকবেন না। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কথায়, “আমার আনুগত্য প্রশ্নচিহ্নের মুখে। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি সমস্ত পদ থেকে সরে যাওয়ার। আর কোনও দিনই কালীঘাটে যাওয়ার প্রশ্ন উঠছে না।” সব মিলিয়ে বলাই যায়, কার্যত রাগের মাথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এক কথাতেই অভিমানে বলা যেতে পারে তৃণমূলটা প্রায় ছেড়ে দিলেন চন্দ্রিমা।










