প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) শুরু হতে আর বেশিদিন বাকি নেই, কিন্তু এখনও রাজ্যে SIR (SIR In Bengal) বিতর্ক যেন কিছুতেই কাটছে না। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি SIR এর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই অশান্তি যেন চরম আকার নিয়েছে। এই অবস্থায় কমিশনের বিরুদ্ধে আজ থেকেই ধর্মতলায় ধর্নায় বসেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এক এক করে বিধায়ক নেতা মন্ত্রী উপস্থিত হচ্ছে এই সভায়। আর এবার SIR বিতর্ক নিয়ে দলের সংখ্যালঘু সেলের তরফে রীতিমতো বাংলাদেশের অনুকরণে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিল তৃণমূল নেতৃত্ব।
বাংলাদেশ বা নেপালের মতো আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ির বাহাদুর অঞ্চলে তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের তরফে একটি সভা করা হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল সংখ্যালঘু সেলের অঞ্চল সভাপতি মেহেবুব আলম, উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল মাদারের জেলা কমিটির সদস্য পল হাসান প্রধান। এদিন SIR কর্মসূচিতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছিল সেই সময় তৃণমূল নেতৃত্ব হুঁশিয়ারি দেয় যে আগামীতে যে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ হতে চলেছে, সেই তালিকায় যদি সব জীবিত ভোটারদের নাম না থাকে তাহলে জলপাইগুড়ি জেলায় ২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন করতে দেবেন না তাঁরা। এখানে শেষ নয়, হুঁশিয়ারি দিয়ে শাসকদল জানায় যে,“ প্রয়োজনে বাংলাদেশ বা নেপালের মতো আন্দোলন করা হবে। তখন যদি কেন্দ্রীয় বাহিনী এগিয়ে আসে তবে তাদের সঙ্গেও সরাসরি সংঘাতের পথে যেতে পিছপা হব না।”
কটাক্ষ বিজেপির
বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল নেতাদের এই হুনসমূলক মন্তব্যকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। যা নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য সৌজিত সিংহ। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “দেশে বাংলাদেশের মত জামাতের সরকার নেই। তাই তৃণমূল নেতাদের সংযত হয়ে মন্তব্য করাই ভালো।” পাশাপাশি তিনি SIR এ ভোটার তালিকায় বিচারাধীন নামের প্রসঙ্গে বলেন, “অনেক বিজেপি নেতা কর্মীদের নামও বিচারাধীন রয়েছে। তাই তাঁরাও উদ্বিগ্ন। কিন্তু প্রয়োজনীয় নথি দেখাতে না পারলে নাম অবশ্যই কাটা যাবে। তাই সকলে চিন্তামুক্ত থাকুন এবং নির্বাচন কমিশনারের ওপর বিশ্বাস রাখুন।”
আরও পড়ুন: ভোটাধিকার রক্ষায় ধরনায় মমতা, ধর্মতলায় কতদিন চলবে এই কর্মসূচি?
প্রসঙ্গত, এসআইআর শুরুর আগে জলপাইগুড়িতে মোট ভোটার ছিল ১৯১৪০২২ জন। কিন্তু এসআইআর শুরুর পর মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটার হিসেবে বাদ যায় ১,৩৩,১০৭ জনের নাম। এরপর লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে ডাক পান ২,৭৫,৪০২ জন ভোটার। অন্যদিকে, আনম্যাপ ক্যাটাগরিতে ছিলেন ৭৭৪৪০ জন ভোটার। পরে শুনানি পর্ব মিটলে শুনানির পর এবার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ল ৩২,৭৮৫ জন ভোটারের। এবং বর্তমানে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৪৮৯১৪ জন। এখন দেখার সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকায় কী ফলাফল বেরোয়।












