সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ২০২৬-র পৌষ সংক্রান্তি কত তারিখে পড়ছে (Poush Sankranti 2026)? প্রতিটি বাঙালিদের মনেই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে এই প্রশ্ন – পৌষ সংক্রান্তি কবে। সাধারণত, পৌষ মাসের শেষের দিন বাঙালিরা এই উৎসব পালন করে থাকে। স্বাভাবিকভাবে ১৪ বা ১৫ জানুয়ারিতেই এই উৎসব পালিত হয়। ঠিক যেদিন সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করে এবং উত্তরায়ণের সূচনা হয়, তার আগের দিনেই এই পৌষ সংক্রান্তি ঘটা করে পালিত হয়। বিশেষ করে এদিন পিঠে-পুলি বা গুড়ের পায়েসের মতো খাবার তৈরি করা হয় এবং খাওয়া হয়। তবে পঞ্জিকা কী বলছে? আগামী বছর পৌষ সংক্রান্তির দিনক্ষণ, তিথি নক্ষত্র এবং আচার বিধি কী রয়েছে? জানতে হলে পড়ুন এই প্রতিবেদন।
২০২৬ সালে পৌষ সংক্রান্তি কত তারিখে? | Date And Time of Poush Sankranti 2026 |
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, আগামী বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে পৌষ সংক্রান্তি দিনক্ষণ ঠিক নিম্নরূপ—
- ইংরেজি তারিখ: পৌষ সংক্রান্তি পড়ছে আগামী ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, বুধবার।
- বাংলা তারিখ: পৌষ সংক্রান্তি পড়বে ২৯ পৌষ, ১৪৩২ সন। অর্থাৎ, পৌষ মাসের শেষের দিন এই উৎসব পালিত হবে।
পৌষ সংক্রান্তি ২০২৬ তিথি
পঞ্জিকা অনুযায়ী জানা যাচ্ছে—
- পৌষ সংক্রান্তি তিথি শুরু হবে ১৩ জানুয়ারি, বিকেল ৩:১৭ মিনিটে।
- পৌষ সংক্রান্ত তিথি শেষ হবে ১৪ জানুয়ারি, সন্ধ্যা ৫:৫২ মিনিটে
- তবে পুণ্য সময় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে ১৪ জানুয়ারি দুপুর ২:৪৯ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৫:৪২ মিনিট পর্যন্ত।
পৌষ সংক্রান্তি ২০২৬ একঝলকে
বিষয় | তথ্য |
উৎসবের নাম | পৌষ সংক্রান্তি |
বাংলা তারিখ | ২৯ পৌষ, ১৪৩২ |
ইংরেজি তারিখ | ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ |
| তিথি শুরু | ১৩ জানুয়ারি, বিকেল ৩:১৭ |
| তিথি শেষ | ১৪ জানুয়ারি, সন্ধ্যা ৫:৫২ |
| পুণ্য সময় | ১৪ জানুয়ারি দুপুর ২:৪৯ থেকে সন্ধ্যা ৫:৪২ |
| বিশেষ আকর্ষণ | পিঠে-পুলি খাওয়া |
পৌষ সংক্রান্তির মাহাত্ম্য
পৌষ সংক্রান্তির দিন মূলত নতুন ফসল ঘরে তোলা হয়, আর শীতের সমাপ্তি ঘটে। এর পরের দিনেই উত্তরায়নের সূচনা হয়। ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত এই বিশেষ দিনটি। কারণ, এই দিন বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠে-পুলি ও পায়েস রান্না করা হয়। পাশাপাশি লক্ষী পূজা বা গঙ্গাস্নানের মাধ্যমে সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য কামনা করা হয় বলে বিশ্বাস।আর এটিকে ঐতিহ্যবাহী লোক উৎসব হিসাবেও পালন করা হয়। বলে রাখি, পৌষ সংক্রান্তির পরের দিনই সূর্য মকর রাশিত প্রবেশ করে আর উত্তরায়ণের সূচনা হয়, যা অত্যন্ত শুভ এবং মঙ্গলময় হিসাবে মানা হয়।
পৌষ সংক্রান্তির ইতিহাস
পৌষ সংক্রান্তি মূলত ফসল কাটা এবং শীতের শেষে সূর্যের উত্তরায়নের সঙ্গে জড়িত। বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন নামেই পালিত হয় এই পৌষ সংক্রান্তি। যেমন বাংলাতে পৌষ সংক্রান্তি বা পৌষ পার্বণ হিসেবেই এটিকে আখ্যায়িত করা হয়। আর বিহার বা উত্তর প্রদেশে খিচড়ি পরব হিসেবে পালন করা হয়। পাশাপাশি তামিলনাড়ুতে পোঙ্গল, অসমে বিহু, পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় লোহরি নামে এই দিনটি পালিত হয়।
পৌষ সংক্রান্তির দিন কী কী করা উচিত?
পৌষ সংক্রান্তি মূলত বাঙালিদের মধ্যে আনন্দ উৎসবেরই একটি দিন। আর এই বিশেষ দিনটিতে কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়। যেমন—
- পিঠে পুলি তৈরি: এই দিন নতুন চালের গুঁড়ো, গুড়, নারকেল দিয়ে বিভিন্ন ধরনের পিঠে তৈরি করে খাওয়া হয়। যেমন- ভাপা পিঠে, পাটিসাপটা ইত্যাদি।
- দান ধ্যান: পৌষ সংক্রান্তির দিন তিল, চাল, গুড়, নতুন পোশাক বা টাকা দরিদ্রদের মধ্যে দান করতে হয়। তাহলে জীবনে সুখ সমৃদ্ধি ফিরে আসে।
- তিলের নাড়ু বিনিময়: পৌষ সংক্রান্তির এই বিশেষ দিনটিতে একে অপরের সঙ্গে তিলের নাড়ু বিনিময় করাকে শুভ বলে মনে করা হয়।
- পারিবারিক মিলন: পৌষ সংক্রান্তির দিন আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে যাওয়া বা উপহার বিনিময় করার জন্যও ইতিবাচক।
আরও পড়ুন: ২০২৬-এ সরস্বতী পূজা কত তারিখে? রইল সময়সূচী, তিথি, পুষ্পাঞ্জলি মন্ত্র ও পূজার নিয়ম
পৌষ সংক্রান্তির মূল আকর্ষণ
পৌষ সংক্রান্তিতে বাঙালিদের মধ্যে সবথেকে বড় আকর্ষণ হল পিঠে পুলি খাওয়া। নতুন চালের গুঁড়ো, গুড় বিশেষ করে খেজুরের নলেন গুড় এবং নারকেল দিয়ে তৈরি বিভিন্ন রকমের পিঠে পুলি খাওয়ার চল রয়েছে বাঙালিদের মধ্যে। আর পিঠের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলে পাটিসাপটা, দুধের ভাপা পিঠে, তেলের পিঠে ইত্যাদি। এই সমস্ত খাবারের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ আরও বেড়ে ওঠে। শুধু তাই নয়, এদিন নারকেলের নাড়ু, তিলের নাড়ু, সন্দেশ, খিচুড়ি, পায়েশ ইত্যাদিও তৈরি করা হয়।












