বাবা হিন্দু এবং ছেলে মুসলিম! AERO-র ভূমিকায় প্রশ্নের ঝড় পাঁশকুড়ায়

Published:

Panskura
Follow

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শুরু থেকেই বাংলায় SIR প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক লেগেই রয়েছে। একের পর এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির মাঝেই AERO-দের ভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এমনকি তথ্য আপলোডের ক্ষেত্রেও গাফিলতির অভিযোগ তুলছে তৃণমূল। এদিকে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হবে। তাই তার আগে জোর কদমে চলছে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া। এমন অবস্থায় উঠে এলো এক মারাত্মক তথ্য। পাঁশকুড়ার ( Panskura) ভোটার তালিকায় যেখানে বাবা হিন্দু সেখানে ছেলেকে দেখা যাচ্ছে মুসলিম সম্প্রদায়ের। কিসের ভিত্তিতে ওই সম্পর্কের তথ্য আপলোড করেছেন এইআরও তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পর্যবেক্ষকরা।

চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এল তালিকায়

রিপোর্ট মোতাবেক, পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার একজন ভোটারের তথ্য সুপার চেকিং করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই ভোটারের নাম শেখ রইস আলি। তিনি একজন মুসলিম যুবক। এদিকে তাঁর বাবার নাম রেকর্ডে লেখা হয়েছে ভুবনচন্দ্র বেরা। সে একজন হিন্দু ব্যক্তি। জানা গিয়েছে এই ভুবনচন্দ্র বেরাকেই নিজের বাবা দেখিয়ে লিঙ্ক করিয়েছেন রইস আলি। যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ সকলের। আর সেই তথ্য আপলোডও করেছেন AERO। এই ঘটনায় রাজ্যের CEO দফতরের প্রশ্ন, কীভাবে কোনও তথ্য ছাড়াই সেই লিঙ্কের অনুমতি দিলেন এইআরও? ইতিমধ্যেই জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হচ্ছে এই রিপোর্ট। এখন দেখার এই রিপোর্ট দেখে কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

Panskura

AERO-দের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারীর বার্তা

SIR প্রক্রিয়ায় বাংলায় ERO এবং AERO-দের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। তাঁদের অভিযোগ শাসকদলের চাপে কিংবা শাসকদলের কথায় ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করেছেন অনেক আধিকারিক। কিছুদিন আগেই ERO ও AERO-দের উদ্দেশ্যে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, “আপনারা এগুলো করবেন না। আপনি যদি বেআইনিভাবে অ্যাপ্রোচ করেন তাহলে তার দায়িত্ব আপনার। তাই ERO আর AERO-দের বলব ডিএমদের কোনও নির্দেশ ভার্চুয়ালি নেবেন না। লিখিত অর্ডার ছাড়া কিচ্ছু করবেন না। এতে আপনাদেরই মঙ্গল। আর না করলে শুধু চাকরিই যাবে না, আপনাকে জেলেও থাকতে হবে।”

আরও পড়ুন: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য? এবার কমিশনের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ফাঁস করলেন অভিষেক

প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করেছে কমিশন। এসআইআরের কাজে তাঁদের বিরুদ্ধে অসদাচরণ, কর্তব্যে গাফিলতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলে কমিশন। সেই বিষয় উল্লেখ করে প্রথমে ওই সাত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়ে রবিবার মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিঠি পাঠিয়েছিল কমিশন। কিন্তু রাজ্য সরকার কোনও পদক্ষেপ করার আগেই ওই আধিকারিকদের সাসপেন্ড করে দেয় খোদ কমিশন। পাশাপাশি, এইআরও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের। যদিও সেই নিয়ে গর্জে উঠেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গুরুত্বপূর্ণ খবর পড়তে জয়েন করুন Join Now