সিভিক পুলিশ বাদ, নামছে আরও ১৫০ কোম্পানি বাহিনী! বাংলায় ভোট নিয়ে কড়াকড়ি কমিশন

Published:

Central Forces

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রাজ্যে এবার দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026) হতে চলেছে। প্রথম দফা হবে ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা হবে ২৯ এপ্রিল। এবং আগামী ৪ মে হবে ভোট গণনা। তাই বোঝাই যাচ্ছে হাতে খুব বেশি সময় নেই। শাসকদল থেকে শুরু করে বিরোধীদলগুলির মধ্যে তাই ভোট প্রচার নিয়ে তুমুল ব্যস্ততা চলছে। এমতাবস্থায় বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আরও কয়েকটি কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। ফের নতুন করে আরও ১৫০ কেন্দ্রীয় বাহিনীর (Central Forces) কোম্পানি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিলেন তাঁরা।

ভোটের কাজে থাকবে না সিভিক পুলিশ

ভোটের দিন নির্ধারণের সময় দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব রকম পদক্ষেপ করবেন তাঁরা। এমনকি নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখা হবে না। সেই মতো নেওয়া হচ্ছে একের পর এক গুরুতর পদক্ষেপ। সম্প্রতি ভোটের কাজে সিভিক ভলান্টিয়ার, গ্রিন পুলিশকে নিষিদ্ধ করল কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে লেখা চিঠিতে কমিশনের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ভোটের কাজে সিভিক পুলিশ, গ্রিন পুলিশ বা স্টুডেন্ট পুলিশকে কোনওভাবেই মোতায়েন করা যাবে না। এছাড়াও, ভোটের ৩ দিন আগে ও পরের দিন ইউনিফর্ম পরে কোনও ডিউটি করতে পারবেন না সিভিক ভলান্টিয়াররা।

আরও ১৫০ কেন্দ্রীয় বাহিনী কোম্পানি মোতায়েন

কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়েও বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। রিপোর্ট মোতাবেক, রাজ্যে নিরাপদে এবং সুষ্ঠু ভাবে ভোট করাতে তৎপর হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশন। আর তাই বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গে নিতে আসা হচ্ছে আরও ১৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। অর্থাৎ ভোটের সময় আগেই ২৪০০ কোম্পানির এসেছিল এখন তার সঙ্গে আরও ১৫০ কেন্দ্রীয় বাহিনী কোম্পানি থাকবে ময়দানে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ২৫৫০ কোম্পানি বাহিনী নিযুক্ত হতে চলেছে। কমিশনের ধারণা পরিস্থিতি বুঝে বাহিনীর সংখ্যা এর পরেও আরও কিছুটা বাড়ানো হতে পারে।

গলদ থাকলেই পুনর্নিবাচন

গতকাল অর্থাৎ বুধবার, রাজ্যের সমস্ত ভোট পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। সেখানেই নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জ্ঞানেশ কুমার জানিয়েছেন, কমিশনের ৩ হাজার ক্যামেরা বুথের ভিতর-বাইরে, রাস্তায়, নাকা চেকিং-এর কাজ করছে। যদি বুথের ক্যামেরায় কালো কাপড় বা বুথের ক্যামেরা বন্ধ থাকে তাহলে অবিলম্বে সেখানে পুনর্নিবাচন ঘোষণা করতে হবে।

আরও পড়ুন: কলকাতা-অমৃতসরের স্পেশাল ট্রেন ঘোষণা রেলের, চলবে তিন মাস! জানুন রুট ও সময়সূচি

প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা রুট মার্চ শুরু করে দিয়েছেন। এর আগে ২০২১ সালে পশ্চিমবঙ্গে আট দফায় বিধানসভা ভোট হয়েছিল। সেই সময় একাধিক বুথে নানা অসুবিধা হয়েছিল। তাই সেই সকল সমস্যার কথা মাথায় রেখে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কমিশন। এদিকে কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বভাবতই নজিরবিহীন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

google button