প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রথযাত্রার আগেই ভয়ংকর কাণ্ড দুর্গাপুরের অন্ডালে! আজ সাতসকালে শ্যামসুন্দরপুর কোলিয়ারি এলাকায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল ECL-এর প্রায় ৭০ বছরের পুরনো জলের একটি ট্যাঙ্ক (Water Tank Collapsed In Andal)। বিকট শব্দে চারিদিক কেঁপে ওঠে। এই ঘটনায় আহত কর্মরত দুই ECL-এর কর্মী। স্থানীয়দের তৎপরতায় তড়িঘড়ি দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের কারণেই এই দুর্ঘটনা। প্রকাশ্যে এসেছে কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির চিত্র।
ভাঙল জলের ট্যাঙ্ক
প্রাপ্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার সকালে আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে দুর্গাপুরের অন্ডালের শ্যামসুন্দরপুর কোলিয়ারি এলাকার ইসিএলের প্রায় ৭০ বছরের পুরনো জলের ট্যাঙ্কটি(Water Tank Collapsed In Andal)। আর সেই সময় ঘটনাস্থলে আটকে পড়েন ECL-এর দুই কর্মী সঙ্গীতা দেবী এবং প্রভাবতী ভুঁইঞা। এদিকে বিকট শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে যান এবং সেখান থেকে তাঁদেরকে উদ্ধার করে এবং তড়িঘড়ি দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। আপাতত তাদের চিকিৎসা চলছে। এদিকে এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা
দীর্ঘদিন ধরেই এই জলের ট্যাঙ্কটি নিয়ে সাধারণ মানুষের অভিযোগ ছিল। কারণ বহু বছর ধরে মেরামত হয় না। স্থানীয় বাসিন্দা ও ECL কর্মীদের অধিকাংশের কথায়, “ইসিএল কর্তৃপক্ষের চরম গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণ হয়নি ট্যাঙ্কটির। মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারত। সৌভাগ্যবশত দু’জন আহত হয়েছেন। আমরা এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।” ইতিমধ্যেই পরিস্থিতির স্বাভাবিক রাতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ।
আরও পড়ুন: সরকারি আধিকারিকদের পোস্টিং নিয়মে বড় বদল! কড়া নির্দেশিকা জারি নবান্নর
প্রসঙ্গত, কয়েক সপ্তাহ আগেই আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছিল কেন্দা এরিয়ার ৭/৯ নম্বর পীট কোলিয়ারি এলাকার ইসিএলের একটি জলের ট্যাঙ্ক। প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো ট্যাঙ্ক ছিল সেটি। এদিকে জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকায় পানীয় জলের সংকর দেখা গিয়েছিল। কারণ এই ট্যাংক থেকেই ওই এলাকার ৫০০ টি পরিবারের জল সরবরাহ হত। অভিযোগ স্থানীয়রা বারংবার এই ট্যাঙ্ক মেরামতের দাবি তুললেও প্রশাসন কোনো রকম ব্যবস্থা নেয়নি। আর আজ সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল অন্ডালে।










