ছিল ভুয়ো ‘বাবা’, করত তৃণমূল! কোচবিহারে গ্রেফতার বাংলাদেশ আনসার বাহিনীর সদস্য

Published:

Bangladeshi Citizen

সৌভিক মুখার্জী, দিনহাটা: ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে তোলপাড়। একের পর এক ভুয়ো ভোটারের মুখোশ খুলেছে এই এসআইআর প্রক্রিয়ায়। ঠিক তেমনই এক ঘটনা ঘটল এবার কোচবিহারের (Cooch Behar) দিনহাটায়। জানা গিয়েছে, ভারতীয় বৃদ্ধকে বাবা দেখিয়েই এপার বাংলার নথিপত্র বানিয়ে নিয়েছিলেন বাংলাদেশের এক নাগরিক (Bangladeshi Citizen)। আধার কার্ড থেকে শুরু করে ভোটার কার্ড, রেশন কার্ড সবকিছুই বানিয়েছিলেন তিনি। অবশেষে ধরা পড়ল অভিযুক্ত।

আনন্দবাজারে রিপোর্ট অনুযায়ী খবর, ওই ধৃত ব্যক্তির নাম ফারুক ব্যাপারি। কোচবিহারে দিনহাটার চৌধুরীহাট গ্রাম পঞ্চায়েতে গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরেই তিনি বসবাস করছেন। ওপার বাংলা থেকে নকল নথিপত্র নিয়েই এদেশে এসেছিলেন। তাঁর সঙ্গে তৃণমূলের ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলেও উঠছে অভিযোগ। এসআইআর আবহে জানা যায় যে, তিনি ভারতীয় নাগরিককে নিজের বাবা বলে পরিচয় দিয়ে ভুয়ো ডকুমেন্ট বানিয়েছিলেন।

শেষমেষ গ্রেফতার অভিযুক্ত

জানা যাচ্ছে, এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে তিনি জমা দিয়েছিলেন। তারপর স্থানীয় পঞ্চায়েতের তরফ থেকে জেলা শাসক এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর পাওয়া যায় যে, শুধু বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে ভারতে থাকা নয়, বরং তিনি শাসকদলের কর্মীও ছিলেন। আর বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারীর দায়িত্বে থাকা আনসার বাহিনীর হিসেবেও কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে খোঁজাখুঁজি করার পর অবশেষে মঙ্গলবার রাতে দিনহাটার পুটিমারি এলাকা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। দিনহাটা ২ ব্লকের চৌধুরীহাটে গত ১০ থেকে ১২ বছর ধরেই তিনি বসবাস করছিলেন। এমনকি সম্প্রতি বাংলাদেশের আনসার বাহিনীর পোশাক পরা ও বন্দুক হাতে তাঁর একটি ছবিও ভাইরাল হয়। আর সেখান থেকেই এই বিতর্কের সূত্রপাত।

ধরা পড়ার পর অমর দাবি করেন যে, তিনি ভারতীয় এবং এপার বাংলার সমস্ত ডকুমেন্টও রয়েছে। তিনি জানান, রাজনৈতিক চক্রের শিকার হয়ে আজ গ্রেফতার হয়েছেন। এখানেই তাঁর পরিবার রয়েছে। এক সময় শাসক দলের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। এখন তৃণমূলের সঙ্গে কোনও কারবার নেই। তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে না, শ্রী চৈতন্য দেবের ভক্ত হয়ে এসেছি’ মায়াপুরে বললেন অমিত শাহ

এদিকে কোচবিহারের জেলা তৃণমূল সহ-সভাপতি আব্দুল জলিল আহমেদ জানান, ওই ব্যক্তি তৃণমূলের কেউই নন। আর কোনও পদেও ছিলেন না। আইন আইনের পথেই চলবে। যদি কেউ বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে এদেশে ভুয়ো ডকুমেন্ট নিয়ে গা ঢাকা দিয়ে থাকার চেষ্টা করে, তাহলে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করবেই। পাশাপাশি জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি বিরাজ বসু জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছি যে ওমর বাংলাদেশি এবং তৃণমূলের সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে। আর এলাকার বাসিন্দারাও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। শেষমেশ পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

google button