সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: রাজ্য সরকারের নতুন বেকার ভাতা প্রকল্প যুবসাথী (Banglar Yuva Sathi) নিয়ে এমনিতেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে। আর এবার সরাসরি এই প্রকল্পের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুললেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। তিনি দাবি করলেন, আর্থিক সংকটে জর্জরিত রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রকল্প চালানো কোনওভাবেই সম্ভব নয়।
সুকান্ত মজুমদারের বিস্ফোরক মন্তব্য
সুকান্ত মজুমদার এদিন সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যুবসাথী প্রকল্প ফ্লপ করবেই। একটা পয়সাও দিতে পারবে না। বাজেট কোথায়? কোনও অর্থই নেই। কিন্তু বিজেপি আসলে আমরা এই প্রকল্প বন্ধ করব না, বরং চালু রাখব। এমনকি তিনি আরও দাবি করেছেন, যুবকদের আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা করে বিজেপি বহু আগেই চিন্তাভাবনা করেছিল। বর্তমান রাজ্য সরকার সেই ধারণাকেই নকল করে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে।
এদিকে বিজেপি ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে বাংলায় ভোট জিততে চাইছে বলেও কটাক্ষ করেছেন সুকান্ত মজুমদার। তিনি অভিযোগ করেন, উল্টে রাজ্যের শাসক দল এই ধরনের রাজনীতি করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করেছেন।
রাজ্য সরকারের মানবিক প্রকল্প যুবসাথী
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, এবারের বাজেটে রাজ্য সরকার এই যুবসাথী প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন, যেখানে মাধ্যমিক পাস করলেই বেকার যুবক-যুবতীরা প্রতি মাসে ১৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। তবে এর জন্য অবশ্যই ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে বয়স হওয়া লাগবে, আর সর্বোচ্চ পাঁচ বছর এই ভাতা মিলবে। অর্থাৎ পাঁচ বছরে মোট ৯০,০০০ টাকা ভাতা পাবে বেকাররা। আগামী ১৫ আগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হওয়ার কথা থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী তা ১ এপ্রিল থেকে চালু হচ্ছে।
এদিকে সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আবেদনকারীদের আর্থিক আর কর্মসংস্থানের অবস্থা খতিয়ে দেখেই এই প্রকল্পের ভাতা দেওয়া হবে। বিশেষ করে প্রভিডেন্ট ফান্ড সুবিধা থাকলে এই প্রকল্পের ভাতা মিলবে না। আর ইএসআই সুবিধাভোগীরাও এখানে অযোগ্য। এমনকি অন্য সরকারি ভাতা নিলে যুবসাথী প্রকল্পের টাকা পাওয়া যাবে না। কিন্তু সরকারি স্কলারশিপ থাকলে এই ভাতা পাওয়া যাবে। এছাড়াও পাঁচ বছরের মধ্যে চাকরি পেলে তা সরকারকে জানানো বাধ্যতামূলক।
আরও পড়ুন: আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চরম অপমানিত মহম্মদ সেলিম, ভাষণ শুরু করতেই বয়কট ছাত্রদের
সরকারি সূত্র মারফৎ খবর, প্রথম দু’দিনে এই প্রকল্পে ১৩ লক্ষের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আর প্রায় সমস্ত জেলাতেই শিবিরে দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। এমনকি এই প্রকল্প নিয়ে যুবসমাজের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কিন্তু ভোটের আগে বিরোধীরা এই প্রকল্পকে নিয়ে জলঘোলা করতে ছাড়ছে না।












