সহেলি মিত্র, কলকাতা: অবশেষে দীর্ঘ কয়েক দশকের জট কাটল। বাংলায় বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসতেই বিমানবন্দর থেকে মসজিদ সরানোর তোড়জোড় শুরু হল। কলকাতা বিমানবন্দরের রানওয়ের কাছে যে মসজিদটি (Kolkata Airport Mosque) ছিল সেটি সরানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে বলে খবর। বাকড়া মসজিদ সরছে বলে খবর। বিমানবন্দরের ডিরেক্টর জানিয়েছেন, টার্মিনাল ভেঙে আলোচনার মাধ্যমে সরানো হবে মসজিদটি।
অবশেষে বিমানবন্দর থেকে সরছে মসজিদ
প্রশাসন জানিয়েছে, হজের পরেই রানওয়ে সম্প্রসারণের কাজ শুরু। মসজিদটি ১৩০ বছরেরও বেশি পুরোনো এবং বিমানবন্দরটির চেয়েও প্রাচীন বলে মনে করা হয়। এটি বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ে থেকে প্রায় ১৬৫ মিটার দূরে অবস্থিত। বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ বছরের পর বছর ধরে যুক্তি দিয়ে আসছে যে, এর অবস্থান রানওয়ে সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি করে, বিমান চলাচল কার্যক্রমে প্রভাব ফেলে এবং শীতের ঘন কুয়াশার মধ্যে বিমান অবতরণের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত ইন্সট্রুমেন্ট ল্যান্ডিং সিস্টেম (ILS) স্থাপনে দেরি করে। ফলে মসজিদ সরানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুনঃ ব্রিটিশ ঐতিহ্যে ইতি, জওয়ানদের জন্য নতুন ড্রেস কোড চালু করল ভারতীয় সেনা
বিষয়টি কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে আছে। ১৯৫০ ও ১৯৬০-এর দশকে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় নিকটবর্তী গ্রামগুলোকে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। জানা যায় যে, ঐতিহাসিক মসজিদটি অক্ষত থাকবে এমন আশ্বাস পাওয়ার পরেই বাসিন্দারা সরে যেতে রাজি হয়েছিলেন।পরবর্তী সরকারগুলো স্থাপনাটি স্থানান্তর করা এড়িয়ে গেছে। শোনা যায়, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু মসজিদটি সরানোর একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
বিকল্প ভাবছে সরকার!
পরে, ২০০৩ সালে কেন্দ্র এবং তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার বিমানবন্দর সম্প্রসারণ পরিকল্পনা পরিবর্তন করে এবং বিপরীত দিক থেকে রানওয়ে সম্প্রসারিত করে, যার ফলে অতিরিক্ত ব্যয় হয় এবং কৈখালীর কাছে রাস্তা ঘুরিয়ে দিতে হয়। তবে এবার অবশেষে বিজেপি সরকারের তত্ত্বাবধানে মসজিদটি সরছে। সূত্রের খবর, স্থানান্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দর চত্বরের বাইরে একটি বৃহত্তর ও আধুনিক মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। জানা গেছে, মসজিদ কমিটির প্রতিনিধি এবং বেশ কয়েকটি মুসলিম সংগঠন এই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন। এখন দেখার কবে এই কাজ শেষ হয় এবং কীভাবে উপকৃত হয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।










