সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: শেষ হয়েছে বিধানসভা নির্বাচন। তবে খাস কলকাতায় আইপ্যাকের (IPAC) দফতরে তল্লাশি চালাতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডিকে (Enforcement Directorate) যে বাধার মুখে পড়তে হয়েছিল, সেখানে অটল থেকে নিজের কর্তব্য পালন করার কারণে বিশেষ পুরস্কার পেয়েছেন ইডি আধিকারিক প্রশান্ত চান্ডিলা। শুক্রবার দিল্লিতে ইডির ৭০ তম প্রতিষ্ঠা দিবসের মঞ্চে তাঁর হাতে এই সম্মান তুলে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার মতে, চরম উত্তেজনার মুহূর্তেও প্রশান্ত নিজের পেশাদারিত্বে যে পরিচয় দিয়েছেন তা নজিরবিহীন।
ইডি দিবসে বিশ্বাস সম্মান
আসলে আজ অর্থাৎ ১ মে ইডির প্রতিষ্ঠা দিবস ছিল। ১৯৫৬ সালে শুরু হওয়া এই সংস্থার ৭০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দিল্লিতে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর পদমর্যাদার প্রশান্ত চান্ডিলা সহ মোট ৫ জন অধিকারিককে পুরস্কৃত করা হয়েছে। যদিও মঞ্চ থেকে আইপ্যাকের নাম সরাসরি উচ্চারণ করা হয়নি। কিন্তু কলকাতার সেই অভিযানের কথা উল্লেখ করে প্রশান্তের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।
এদিকে পুরস্কার প্রদানের সময় সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, গত জানুয়ারি মাসে লাউডাউন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে এবং সল্টলেকের আইপ্যাকের দফতরে যে উত্তেজনামূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেখানে প্রশান্ত নিজের পেশাদারিত্বে অটল ছিলেন। আর তল্লাশির পর অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে তিনি যে সিজার লিস্ট বা পঞ্চনামা তৈরি করেছিলেন তা পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানিতে ইডির পক্ষে সবথেকে বড় প্রমাণযোগ্য নথি হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল।
বলে দিই, গত জানুয়ারিতে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে নেমে আইপ্যাকের দফতরে হানা দিয়েছিল ইডি। আর সেই তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে হাজির হন। এমনকি একটি সবুজ ফাইল নিয়ে তিনি চলে যান। পাশাপাশি তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে তৃণমূলে দাবি ছিল যে, নির্বাচনী কৌশল চুরি করতেই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। এই চরম রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে প্রশান্ত চান্ডিলা যে বয়ান দিয়েছিলেন এবং যে নথিপত্র তৈরি করা হয়েছিল, তাকেই সাহসিকতার নজির হিসেবে দেখছে ইডি।










