প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাঁশের পোলে ঝুঁকির পারাপার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের, নির্বাচনের আবহে এমনি দৃশ্যের সাক্ষী থাকল পশ্চিম মেদিনীপুর (Paschim Medinipur) জেলার কেশপুরের মহিষদা গ্রাম। অভিযোগ একাধিকবার শক্ত পোক্ত ব্রিজ নির্মাণের আবেদন জানানো হলেও কোনো রকম সাড়া পাওয়া যায়নি প্রশাসনের তরফে। যার ফলে পরীক্ষার্থীদের একদিকে যখন পরীক্ষায় পড়ার চাপ ও টেনশন বাড়ছে তখন অন্যদিকে আবার বাড়ি থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছানোর জন্য নদী পারাপারের দুশ্চঃচিন্তাও দিন দিন বাড়ছে।
দেবের জন্মভূমিতে অনুন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা
স্থানীয় রিপোর্ট মোতাবেক, ঘাটালের সাংসদ তথা অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেবের জন্মভূমি পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরের মহিষদা গ্রামে পারাং নদীর উপর সেতু নির্মাণ নিয়ে অনেকবার প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছিল এলাকাবাসী। কিন্তু কেউই কোনো পদক্ষেপ করেনি। এদিকে মহিষদ রামনারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্র পড়েছে আন্দিচক উচ্চ বিদ্যালয়ে। তাই সেখানে যাওয়ার জন্য এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া বেশ সুবিধাজনক হবে পরীক্ষার্থীদের। শেষে বাধ্য হয়েই গ্রামের মানুষ বাঁশের তৈরি অস্থায়ী পোল তৈরি করে আর তা দিয়েই ঝুঁকিপূর্ণভাবে ছাত্র-ছাত্রীরা সাইকেল নিয়ে পারাপার করে পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে।
প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাবার পরীক্ষার্থীদের
জানা গিয়েছে, পারাং নদীর এক প্রান্তে ১০ কেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাপাসগেড়িয়া গ্রাম অন্য প্রান্তে রয়েছে ১২ নম্বর সরিষাকলা গ্রাম পঞ্চায়েতের কুদমিচক গ্রাম। আর এই দুই গ্রামের সংযোগস্থল এখন এই অস্থায়ী বাঁশের ব্রিজ। ছাত্রছাত্রীরা জানাচ্ছে, গ্রামের ছেলে সাংসদ হলেও তাদেরকে এভাবেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার করে পরীক্ষা দিতে যেতে হচ্ছে, যা খুবই লজ্জার। এই নদীতে ব্রিজ প্রয়োজন। আজ আমরা না পারলেও আমাদের পরবর্তী ব্যাচ যেন শক্ত ব্রিজের উপর দিয়ে গিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে পারে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই রাস্তা ছাড়াও যাতায়াতের জন্য আর্দো একটি রাস্তা আছে, কিন্তু সেটি অনেকটাই ঘুরে যেতে হয়।
আরও পড়ুন: ‘যুব সাথী’ ফর্ম নিয়ে কাড়াকাড়ি, রণক্ষেত্র আরামবাগ, অসুস্থ বহু মানুষ
কুদমিচক গ্রামের মানুষদের প্রায় ১২ থেকে ১৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে চিকিৎসার জন্য কেশপুর হাসপাতালে বা ব্লক উন্নয়ন অফিসে যেতে হয়। যা অত্যন্ত অসুবিধাজনক। কিন্তু এই বাঁশের ব্রিজ দিয়ে যাওয়াও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এই ব্যাপারে কেশপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি চিত্তরঞ্জন গরাই বলেন, গ্রামের রাস্তা হয়তো এভাবেই যাতায়াত করছে। তবে কয়েক কোটি টাকা প্রয়োজন পোল করতে ঊর্ধ্বতন ও কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাবো যাতে ছাত্রছাত্রীদের এইভাবে কষ্ট করে পড়াশোনা করতে যেতে না হয়। খুব দ্রুত সমস্যার সমাধান করে দেওয়া হবে।”












