সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অবশেষে গ্রেফতার ফলতার ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গীর খান (Jahangir Khan)। সমস্ত হম্বিতম্বির অবসান ঘটিয়ে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স তাঁকে গ্রেফতার করেছে বলে খবর। জানা যাচ্ছে, ফলতার এই দাপুটে তৃণমূল নেতা নেপাল সীমান্ত দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। সেখান থেকেই হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। গ্রেফতার করার পর তাঁকে কলকাতায় নিয়ে আসা হচ্ছে বলেই এসটিএফ সূত্রে খবর।
দাপট শেষ অভিষেক পাত্র জাহাঙ্গীর খানের
জানিয়ে দিই, গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ফলতায় ব্যাপক দুর্নীতি এবং অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কোনও জায়গায় ইভিএম-এ আতর ঢেলে দেওয়া হয়, কোনও জায়গায় বিজেপির চিহ্নের উপর টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি ভোটারদেরকে জোড়পূর্বক ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে। তবে সেই অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা পড়তেই এই বিধানসভা কেন্দ্রের ২৬৫টি বুথেই পুননির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। আর সেই দিনক্ষণ ধার্য করা হয় ২১ মে, অর্থাৎ নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর।
এদিকে গত ৪ মে ফল প্রকাশে রাজ্যে বিজেপি একতরফা ভাবে জয়লাভ করে ক্ষমতা দখল করে। তারপর থেকেই তৃণমূলের একের পর এক নেতা, কাউন্সিলর, চেয়ারম্যান পুলিশের জালে পড়ছে। তবে আচমকা পুননির্বাচনার আগে নিজের প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে নেন জাহাঙ্গীর খান। এমনকি ভোটের আগে উত্তরপ্রদেশ থেকে আসা ‘সিংহম’ অফিসার খ্যাত পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মাকে সরাসরি তিনি কটাক্ষ করে নিজেকে ‘পুষ্পা’ দাবি করেন। কিন্তু সেই ‘পুষ্পা’র সমস্ত হম্বিদম্বি পুননির্বাচনের আগেই মাটি হয়ে যায়।
আরও পড়ুন: ৫ পাহাড়ি শহর নিয়ে নতুন ‘হিমালয়ান হিল সিটি’ বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রা পালের
প্রত্যাশা মতোই ২৪ মে ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, বিজেপি প্রার্থী ১ লক্ষ ৮ হাজার ভোটে জয়লাভ করেছে এই বিধানসভা কেন্দ্রে। তৃণমূলের স্থান হয় চার নম্বরে। এমনকি পুননির্বাচনের পর থেকেই পলাতক ছিল জাহাঙ্গীর খান। অবশেষে নেপাল সীমান্ত থেকেই আটক করা হয়েছে দাপুটে এই তৃণমূল নেতাকে। গোপন সূত্রে খবর পেয়েই এসটিএফ আধিকারিকরা সেখানে পৌঁছন। তাদের দাবি, এই সীমান্ত দিয়েই নেপালে পালানোর চেষ্টা করছিল ‘পুষ্পা’।










