বারুইপুর গণধর্ষণ কাণ্ডের প্রতিবাদে মোমবাতি মিছিল মমতার, উঠল ‘বিজেপি হটাও’ স্লোগান

Published:

Baruipur Rape Case

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় গোটা রাজ্য (Baruipur Rape Case)। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্তদের। রাজ্যের বিরোধী শিবির আঙুল তুলছে শাসক দলের দিকেই। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়েছেন, দোষীদের সর্বোচ্চ সাজার ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। যদিও গতকাল উত্তেজিত জনতার তাণ্ডবে গণপিটুনিতে মৃত্যু হয় এক অভিযুক্তের। বাদবাকি তিনজনকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। আর আজ সেই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে মোমবাতি মিছিলে নামলেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

মোমবাতি মিছিল মমতার

প্রসঙ্গত, শনিবারই ঘটনাস্থলে যেতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁর বাড়ির সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এমনকি কেন্দ্র বাহিনী দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় তাঁর বাড়ি। হাউজ অ্যারেস্ট করে তাঁকে যেতে দেওয়া হয়নি। তবে গতকালই ফোনে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। আর আজ অর্থাৎ সোমবার তৃণমূলের প্রতিনিধি দল বারুইপুরে পৌঁছয়। এমন তারাও নাবালিকার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে।

কিন্তু আজ দলীয় কর্মীরা কলকাতায় ফিরতেই প্রতিবাদ মিছিল নেমে পড়েন তিনবারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হাতে মোমবাতি নিয়ে মিছিল করতে দেখা যায় এদিন। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের একাধিক নেতা কর্মীরা। রয়েছেন তৃণমূলের আইটি সেলের বর্তমান প্রধান উপাসনা চৌধুরী থেকে শুরু করে সাংসদ দোলা সেন সহ প্রমুখরা। তবে রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে তাঁদের একটাই দাবি, ‘বিচার চাই’। এমনকি তারা বিজেপিকে বাংলা থেকে হটানোর স্লোগানও দেয় মিছিলে।

আরও পড়ুন: শিয়ালদহ-বারাসাত রুটে ছুটল নতুন AC লোকাল, জানুন ট্রেনটির সময় ও ভাড়া

প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, শনিবার সন্ধ্যায় বারুইপুরে ওই ১১ বছরের নাবালিকা খাবার কিনতে বেরিয়েছিল। কিন্তু আর রাতে বাড়ি ফেরেনি সে। রাতভর তল্লাশি করে অবশেষে রবিবার সকালে পুকুর থেকে তাঁর বস্তাবন্দি নিথর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে জানা যায়, চারজন মিলে ওই শিশুটিকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও খুন করে পুকুরে ফেলে দেয়। এই ঘটনা সামনে আসতেই একেবারে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বারুইপুর। রেললাইন অবরোধ থেকে শুরু করে পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর, এমনকি পুলিশের উপরেই বিক্ষোভ দেখানো হয়। গণপিটুনিতেই মৃত্যু হয় এক অভিযুক্তের। আর বাদবাকি তিনজনকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।