এক ফর্মেই সব প্রকল্পের সুবিধা! অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে বিরাট ভাবনা নবান্নর

Published:

Annapurna Bhandar

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অফলাইন থেকে অনলাইন, চলছে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের (Annapurna Bhandar) আবেদন। প্রথম ১৬ দিনে রাজ্যে মোট ৮৯ লক্ষ ৯৪ হাজার ২১৩ টি আবেদন জমা পড়েছে। কিন্তু এবারের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্ম আর লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো রাখা হয়নি। একেবারে ১৩ পাতার ফর্ম। আর সেখানে আবেদনকারী থাকা শুরু করে পরিবারের সমস্ত সদস্যদের ব্যক্তিগত তথ্য যাওয়া হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, রেশন কার্ড সবকিছু। কিন্তু এত কিছু তথ্য নেওয়ার কারণ কী?

অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের ফর্মেই সবকিছু

আসলে এবারের এই আবেদন ফর্ম ১৩ পাতা রাখার পেছনে রাজ্য সরকারের অন্য উদ্দেশ্য লুকিয়ে রয়েছে। ১৩ পাতার এই ফর্মে পরিবারের সমস্ত সদস্যরা তথ্য চাওয়া হচ্ছে কারণ, রাজ্যের সরকারের উদ্দেশ্য একটাই, রাজ্যের সমস্ত নাগরিকদের স্বচ্ছ ডেটা ব্যাঙ্ক তৈরি করা। আগামী দিন অন্যান্য প্রকল্পগুলির সুবিধা যাতে যোগ্য নাগরিকরা পেতে পারেন তার ব্যবস্থা করতে চাইছে রাজ্য। সেক্ষেত্রে নতুন করে আর আবেদন করতে হবে না। এই ডেটার উপর ভিত্তি করেই দেওয়া হবে সমস্ত সুবিধা।

এখনও পর্যন্ত ৮৯ লক্ষ আবেদনের মধ্যে মোট ২ কোটি ৯২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৭৩৫ জন রাজ্যবাসীর তথ্য রাজ্য সরকারের হাতে এসেছে। সরকারের মতে, যেহেতু অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে মহিলারাই আবেদন করবেন, কিন্তু তাদের পরিবারের সদস্যদের তথ্য নিলে সেক্ষেত্রে পুরুষদের তথ্যও হাতে আসবে। ফলে অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পগুলিতে যে সমস্ত নাগরিকরা বঞ্চিত হচ্ছিলেন তার সুবিধা এবার থেকে তারা পাবে। এমনকি আগের সরকারের আমলেই এই সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টাল আনা হয়েছিল। কিন্তু সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুন: গঙ্গার নিচ দিয়ে চলবে গাড়ি! ৮০০০ কোটি খরচ করে টানেল তৈরি করবে রাজ্য সরকার

কিন্তু রাজ্যে পালাবদল হতেই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের প্রকল্পের নামে এই সোশ্যাল রেজিস্ট্রি পোর্টাল চালু করা হয়, যেখানে ফ্যামিলি লেভেল ডেটা কালেক্ট করা হচ্ছে। ২৭ মে থেকেই শুরু হয়েছে এই প্রকল্পের আবেদন এবং ৩ জুন প্রথম দফায় ২৮ লক্ষ মহিলার ব্যাঙ্কে ৩০০০ টাকা করে পাঠানো হয়েছে। এমনকি পরে দ্বিতীয় দফা মিলিয়ে মোট ৫০ লক্ষের বেশি উপভোক্তা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। যদিও এখনও পর্যন্ত আবেদনের সময়সীমা রয়েছে। মোট ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে যারা আবেদন করেননি তারা আবেদন করে নিতে পারবেন। কিন্তু হ্যাঁ, সমস্ত তথ্য সঠিক দেওয়া বাধ্যতামূলক বলে জানানো হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে।