গলায় তুলসীর মালা, কপালে তিলক কেটে আসায় ছাত্রীকে TC! তুঙ্গে বিতর্ক পুরুলিয়ার স্কুলে

Published:

Transfer Certificate Controversy

অনন্যা সরকার, পুরুলিয়া: এক ছাত্রী গলায় তুলসীর মালা পরে ও কপালে তিলক কেটে রোজ স্কুল আসে বলে তাকে তাকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দিল পুরুলিয়ার (Purulia) স্কুল কর্তৃপক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে পুরুলিয়ায়, যা নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। দ্বিধাবিভক্ত সাধারণ মানুষ। গলায় তুলসীর মালা পরে ও কপালে তিলক কেটে স্কুলে আসতে বারণ করা হয় ওই ছাত্রীকে। আপত্তি না শোনায়, ডেকে পাঠানো হয় তার অভিভাবককেও। অভিযোগ উঠেছে অভিভাবকরা টিসি (Transfer Certificate) নিতে অস্বীকার করায়, তাদের হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp) টিসি পাঠিয়ে দেওয়া হয় স্কুলের তরফে। এই নিয়ে পাড়া থানায় অভিযোগ জানিয়েছে ছাত্রীর পরিবার। যদিও স্কুলের দাবি, ঘটনাটি এমন নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যাচার করছে ওই ছাত্রী। কি ঘটনা ঘটেছে, আসুন জেনে নিই। 

গলায় তুলসীর মালা, কপালে তিলকের জন্য স্কুল থেকে টিসি ছাত্রীকে

পুরুলিয়ার পাড়া থানা এলাকার একটি স্কুলে ঘটেছে ঘটনাটি। ওই স্কুলের এক একাদশ শ্রেণির ছাত্রীর পরিবার দাবি করেছে, তাদের মেয়ে গলায় তুলসীর মালা ও কপালে তিলক কেটে রোজ স্কুল যেত। এই নিয়ে আপত্তি যায়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে স্কুলের তরফে জানানো হয়েছে, আলাদাভাবে কারোর ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। প্রতিদিন প্রার্থনার সময় প্রতিটি পড়ুয়াকে যেরকম ভাবে শৃঙ্খলা মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়, সেরকম ভাবেই বলা হয়েছিল।

এদিকে ছাত্রীর মা অভিযোগ করছেন, তার মেয়ের গলায় তুলসীর মালা বা কপালে তিলক নিয়ে আপত্তি জানাতেন দিদিমণিরা। তার কথায়, ম্যাডামরা বলতেন ওগুলো ধারণ করা যাবে না। কিন্তু ছাত্রী জানায়, এতে তার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না, সে এগুলো পরেই আসবে। হঠাৎ করেই ওই একাদশ শ্রেণীর ছাত্রীকে টিসি দেয় স্কুল। ছাত্রীর মা বলেন জানান তাকে ফোন করে স্কুল থেকে ডাকা হয়েছিল। তুমি যাওয়ার পর সরাসরি তার হাতে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেওয়া হয়। কারণ জানতে গেলে শিক্ষিকারা বলেন অত কৈফিয়ত দিতে তাঁরা বাধ্য নন। ছাত্রীর মা টিসি না গ্রহণ করেই বাড়ি চলে আসেন। 

অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রীর মা বাড়ি ফিরে এসে দেখেন তার হোয়াটসঅ্যাপে স্কুল ট্রান্সফার সার্টিফিকেটের একটি কপি পাঠিয়ে দিয়েছে। স্কুলের এমন আচরণের বিরোধিতা করে পাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ওই ছাত্রীর পরিবার। পড়ুয়ার ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ভয় দেখানোর মতো নানা অভিযোগ তোলা হয়েছে স্কুলের বিরুদ্ধে। এছাড়া জোর করে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও থানায় অভিযোগ জানান তারা। 

আরও পড়ুনঃ ফের ধসে বিপর্যস্ত NH-10, আটকে শতাধিক পর্যটক

যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা সুস্মিতা চার বলেন, গলায় তুলসীর মালা বা কপালে তিলক আঁকার জন্য ওই ছাত্রীকে আলাদা করে নিষেধ করা হয়নি। স্কুলের সকল পড়ুয়াদেরই নিয়ম শৃঙ্খলা মেনে চলতে বলা হয়, তাকেও সেটাই বলা হয়েছিল। এমনকি ছাত্রী ও তার পরিবারকে ডেকে ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে নেওয়াও হয়। কিন্তু তাও ছাত্রীটি সোশ্যাল মিডিয়ায় স্কুলের দিকে আঙ্গুল তুলে বিতর্কিত ভিডিও পোস্ট করে। এই বিষয় নিয়ে আপত্তি তোলায় ওই ছাত্রীর পরিবার সহ প্রায় ২০০ মানুষ তার ওপর চড়াও হন বলেও অভিযোগ জানান প্রধান শিক্ষিকা। এখনও ছাত্রীটিকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি। অভিভাবকদের সাথে এবিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য একটি বৈঠক ডাকা হয়েছে স্কুলে। 

আরও Purulia School