বিচারাধীন ভোটাররা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে? শুনানিতে জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট

Published:

Supreme Court

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বাংলা (West Bengal Election 2026)। তবে নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ পড়া সংক্রান্ত মামলায় আজ সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) বিরাট ধাক্কা খেয়েছে রাজ্য সরকার। বিচারাধীন তালিকায় থাকা ভোটাররা কি আগামী ২৩ এপ্রিল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে? রাজ্যের এই প্রশ্নের উত্তরে সোমবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিল, এরকম কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

কী বললেন প্রধান বিচারপতি?

সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচির ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। শুনানির শুরুতে প্রধান বিচারপতি জানান যে, ইতিমধ্যে ৬০ লক্ষ ৪ হাজার মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। কিন্তু কারিগরি কিছু সমস্যার কারণে মাত্র ১৮৩৩টি মামলা এখনও পর্যন্ত ঝুলে রয়েছে। আর গত রবিবার থেকেই ট্রাইবুনাল জোরকদমে কাজ শুরু করেছে। অন্যদিকে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি স্পষ্ট জানান, মোট ৩৪ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। এর মধ্যে যাদের নামের তালিকা গত ৬, ৭ এবং ৮ এপ্রিল কয়েক দফায় প্রকাশ করা হয়েছে, কেবলমাত্র তারাই ভোটে অংশগ্রহণ করতে পারবেন।

তবে রাজ্যের পক্ষ থেকে সওয়াল করতে গিয়ে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রঘুনাথগঞ্জের উদাহরণ টানেন। তিনি দাবী করেন, সেখানে এখনও পর্যন্ত বহু ভোটারের নাম বিচারাধীন বা পেন্ডিং অবস্থায় রয়েছে। মোট ১৬ লক্ষ আবেদনকারী যাতে ভোট দেওয়া সুযোগ পান, সেই আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দেন এবং স্পষ্ট বলেন, বিচারাধীন তালিকায় থাকাকালীন ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।

এর উত্তরে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আপনাদের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। তারা কেবলমাত্র তাদের ভোটাধিকার চায়। অন্যদিকে আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় বাংলার জনবিন্যাস পরিবর্তনের প্রসঙ্গ তুললে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা জবাবে জানান যে, বাংলাকে মোটেও টার্গেট করবেন না। বাংলা জানে কীভাবে লড়াই করতে হয়।

আরও পড়ুন: রাজধানী এক্সপ্রেসে দেওয়া ডালে কিলবিল করছে পোকা, অভিযোগ পেয়েই যা করল IRCTC

ট্রাইবুনালের উপর কোনও চাপ নয়

কল্যাণ অনুরোধ করেন যে, ২৩ এপ্রিলের আগে যেন সমস্ত মামলার শুনানি শেষ হয়। কিন্তু প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট জানান, আমরা ট্রাইবুনালের উপর হয়তো চাপ সৃষ্টি করতে পারছি না। তারা তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করবে। এমনকি মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবীর শ্যাম দিওয়ান ও কমিশনের আইনজীবী নাইডু আইনের বিভিন্ন ধারা তুলে নিজেদের সম্পর্কে যুক্তি রাখেন। কিন্তু সমস্ত বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি জানান যে, আদালতকে সব দিক ভেবে দেখতে হবে। মামলাটি স্থগিত রেখে আগামী সপ্তাহে শুনানির দিনক্ষণ ধার্য করা হয়েছে।