প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: শিক্ষার আলোয় গোটা সমাজকে শিক্ষিত করে তুলে ধরতে বড় উদ্যোগ বঙ্গ বিজেপি সরকারের, রাজ্যে (West Bengal) চালু হতে চলেছে ‘উল্লাস’ (Ullas Scheme) নামের কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রকল্প। স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রে খবর, ক্ষমতার রদবদল হতেই কেন্দ্রীয় সরকারের (Central Government Of India) সাক্ষরতা কার্যক্রম কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজ্য সরকার এই প্রকল্পকে বাস্তবায়িত করার পরিকল্পনা করেছে। এদিকে নিরক্ষরতা দূর করতে রাজ্যের এই পদক্ষেপ নিয়ে আনন্দিত সকলে।
রাজ্যে চালু হতে চলেছে উল্লাস
২০২২ সালে কেন্দ্রীয় সরকার জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উল্লাস বা আন্ডারস্ট্যান্ডিং অফ লাইফলং লার্নিং ফর অল ইন সোসাইটি প্রকল্প চালু করেছিল। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী সমস্ত ব্যক্তিদের বয়স্ক শিক্ষা এবং আজীবন শিক্ষার সুযোগ প্রদান করা, যারা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করতে পারেননি এবং নিরক্ষর রয়ে গেছেন। আর এটি ২০২৭ সালের মধ্যে গোটা দেশে ১০০ শতাংশ মানুষকে সাক্ষর করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অর্থাৎ ভারতকে একটি পূর্ণাঙ্গ সাক্ষর সমাজে রূপান্তরিত করতে চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। এবার সেই প্রকল্প চালু হতে চলেছে বাংলায়।
কেন এই পদক্ষেপ?
স্কুলশিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং অফ লাইফলং লার্নিং ফর অল ইন সোসাইটি’ বা উল্লাস মূলত সাধারণ মানুষকে সাক্ষর করে তোলার জন্য নিয়ে আসা হয়েছে। আসলে গ্রামেগঞ্জে এখনও সমাজের বিভিন্ন অংশে শিক্ষার আলো পৌঁছায়নি। বর্তমানে এখনও বহু রাজ্যে নিরক্ষরের সংখ্যা বেশি। তাই এই ভয়ংকর সমস্যা থেকে বাঁচতে দ্রুত সাক্ষরতার অভিযান শুরু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। আগে এই কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য তৃণমূল সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি, তবে এবার ক্ষমতার রদবদল হতেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলি ধীরে ধীরে চালু হচ্ছে।
আরও পড়ুন: নবদ্বীপে ক্লাবঘরে লুকোনো ছিল সরকারি ত্রাণ, মাঝরাতে গ্রেপ্তার তৃণমূলের চেয়ারম্যান
কীভাবে চলবে এই প্রকল্প?
জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করার জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ জনশিক্ষা ও প্রসার বিভাগ, ‘স্টেট কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং’, ‘ডিস্ট্রিক্ট ইনস্টিটিউট অফ এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং’ এবং বিভিন্ন ব্লকের রিসোর্স সেন্টারের উপরে। এরা প্রথমে স্বেচ্ছাসেবক ঠিক করবে এরপরে তাঁদের পাঠানো হবে সেইসব এলাকাগুলিতে যেখানে বসবাসকারী মানুষকে সাক্ষর করতে হবে। এরপরে পর্যায়ক্রমে ওই সব নিরক্ষর মানুষদের প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া শুরু করবেন তাঁরা। অ্যাপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারকে আপডেট দিতে হবে স্বেচ্ছাসেবকদের। এখন দেখার কবে থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়।










