সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বর্তমানে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের শেষ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আমরা। ঠিক সেই আবহে রাজ্য সরকারের (Government of West Bengal) অর্থ দফতর বিল জমা, বেতন এবং পেনশন প্রদানের ক্ষেত্রে একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল। হ্যাঁ, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত মেমো নম্বর ৭০৫এফ (ওয়াই)– এ স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ট্রেজারি ও পে অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস অফিসে যাতে শেষ মুহূর্তে কোনও রকম কাজের চাপ না পড়ে, তার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সমস্ত বিল জমা করতে হবে। এমনকি সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং ড্রয়িং অ্যান্ড ডিসবার্সিং অফিসারদের জন্য আলাদা করে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
মার্চের বেতন এবং পেনশন কবে মিলবে?
এবার সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা হচ্ছে মার্চ মাসের বেতন আর পেনশনের নির্দিষ্ট তারিখ। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রাজ্য সরকারি কর্মী, সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মী, লাইব্রেরী এবং পঞ্চায়েত কর্মীদের মার্চ মাসের বেতন প্রদান করা হবে আগামী ২ এপ্রিল, ২০২৬। এদিকে পেনশনভোগীদের বেতন জমা পরবে ২ এপ্রিল। তাছাড় গ্রান্ট-ইন-এইড, ডিপোজিট অ্যাকাউন্টভুক্ত কর্মী আর সাম্মানিকভোগীদেরও ২ এপ্রিল বেতন দেওয়া হবে। যদিও ট্রেজারিগুলি ৩০ মার্চের মধ্যে চেক বা পেমেন্ট প্রস্তুত করবে বলে জানানো হয়েছে। তবে ব্যাঙ্ক থেকে অর্থ উত্তোলনের অনুমতি ২ এপ্রিলের আগে দেওয়া হবে না।
আরও পড়ুনঃ দোলে উত্তরবঙ্গ যাওয়া আরো সহজ, কলকাতা-এনজেপি বিশেষ ট্রেনের ঘোষণা রেলের
বিল জমা দেওয়ার সময়সীমা
অর্থ দফতর এবার ধাপে ধাপে বিল জমা দেওয়ার সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে। আর ডিডিও-দে এই সূচি মেনে চলা বাধ্যতামূলক এমনটাও জানানো হয়েছে। প্রথমত, মার্চের বেতন, মজুরি ও গ্রান্ট-ইন-এইড স্যালারি বিল জমা দিতে হবে আগামী ২৩ মার্চের মধ্যে। দ্বিতীয়ত, বকেয়া বেতন, ব্যক্তিগত দাবি এবং অবসরকালীন সুবিধা সংক্রান্ত বিল জমা দিতে হবে আগামী ১৮ মার্চের মধ্যে। তৃতীয়ত, ভ্রমণ ভাতা বিল বা টিএ জমা দিতে হবে ১৩, ২৪ এবং ৩০ মার্চ। চতুর্থত, স্যাংশন বা অ্যালটমেন্ট ভিত্তিক বিল তারিখ অনুযায়ী ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ মার্চের মধ্যেই ভাগ করা হচ্ছে। আর ৩০ মার্চ ইস্যু হওয়া স্যাংশনের বিল সেই দিনই জমা দিতে হবে।
আরও পড়ুন: সজনে ডাটা পিষিয়ে দেওয়ায় বাঁকুড়ায় নাবালককে বেধড়ক মারধর তৃণমূল কর্মীর
এদিকে অর্থবর্ষ শেষ হলে যাতে অতিরিক্ত চাপ না পরে, তার জন্য প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ এবার আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ৩০ মার্চ ২০২৬ বিকেল চারটের পর আর কোনও নতুন বিল গ্রহণ করা হবে না। পাশাপাশি বিকেল চারটের পর সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল তৈরি বা জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। এছাড়াও অবজেকশন বা ফেরত আসা বিল পুনরায় জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮ মার্চ থেকে ৩০ মার্চ বিকেল চারটে পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর অর্থ দফতর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যদি বিল না মেটানো হয়, তাহলে জটিলতা তৈরি হতে পারে। শেষ মুহূর্তের জন্য কাজ ফেলে না রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের।












