নেই ডিগ্রি, দশম শ্রেণি পড়ে ২০ হাজার নিয়ে শুরু ব্যবসা, আজ ২ কোটির কোম্পানির মালিক

Published:

Success Story

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অনেকেই ভাবেন যে প্রথাগত শিক্ষা ছাড়া হয়তো জীবনে বড় কিছু অর্জন করা সম্ভব হয় না। তবে যদি নিজের ইচ্ছাশক্তি থাকে, তাহলে যে সবকিছু সম্ভব তা প্রমাণ করে দিলেন কর্ণাটকের (Karnataka) নঞ্জনগুড়ের বাসিন্দা শরথ আরব। আসলে তাঁর গল্পটা একটু আলাদা। অভাবের সংসার আর পড়াশোনায় মন না বসা শরথ আজ উডিয়ার আর্ট নামক এক সফল স্টার্ট-আপের মালিক। দশম শ্রেণীর গণ্ডি না পেরানো এই যুবক কীভাবে কাঠের কাজে প্রযুক্তির ছোঁয়া লাগিয়ে আজ কোটিপতি হয়ে উঠলেন তাই জানাবো এই প্রতিবেদনে (Success Story)।

পড়াশোনা ছেড়ে শুরু হল কারিগরি শিক্ষা

আসলে সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের তাঁর বেড়ে ওঠা। পড়াশোনায় খুব একটা বেশি আগ্রহ ছিল না। দশম শ্রেণীর পর আর স্কুলের দিকে পা বাড়াননি তিনি। কিন্তু বসে থাকার পাত্র তিনি ছিলেন না। গ্রাফিক্স ডিজাইন থেকে শুরু করে এডিটিং, কাঠের কাজে নিজের দক্ষতা বাড়াতে থাকেন। তবে ২০২০ সালে করোনা মহামারিতে তাঁর জীবন অন্ধকার নেমে আসে। কাজবাজ হারিয়ে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছিলেন তিনি। তবে সেই অন্ধকারেই নিজের স্বপ্নকে খুঁজে নেন তিনি। ছোটবেলায় কাঠের কাজের শখকেই ব্যবসার পথে রূপ দেন শরথ।

২০২০ সালে মাত্র ২০ হাজার টাকা পুঁজি দিয়েই নিজের উডিয়ার আর্টের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন তিনি। কাজের সূত্রে তিনি বুঝতে পারেন যে, ভারতে কাঠের কাজের বাজার বিশাল ডিমান্ডেবেল। সঠিক ফিনিশিং আর সময় মতো পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে ভারতে। আর সেই সমস্যা মেটানোর জন্য তিনি সিএনসি মেশিনিং এবং লেজার কাটিংয়ের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে শুরু করেন।

আরও পড়ুন: সবুজায়নে হাঁটছে ভারতীয় রেল, ১ বছরে লাগাল ৮১.৫৯ লাখ গাছ

এদিকে ২০২৩ সালে শরথের সংস্থাটি সরকারিভাবে নথিভুক্ত হয়ে যায়। আর বর্তমানে তা কাঠ এবং এক্রাইলিকের সৃজনশীল কাজ করে থাকে। বড় বড় কর্পোরেট অফিসের সাইনবোর্ড থেকে শুরু করে অ্যাওয়ার্ড, মোমেন্টো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য কাস্টমাইজড আসবাবপত্র সবই তৈরি হয় তাঁর কারখানায়। আর গত কয়েক বছরে শরথের ব্যবসার গ্রাফও একেবারে চোখে পড়ার মতো। ২০২৩ সালে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ২৫ লক্ষ টাকা। আর ২০২৫ সালে মাত্র দুই বছর পেরিয়ে সেই আয় দাঁড়িয়েছে ২ কোটি টাকা। এমনকি বর্তমানে তাঁর টিমে ১৬ জন কর্মী কাজ করছেন, আর সারাদেশে ১ হাজারের বেশি গ্রাহক রয়েছে তাঁর।