প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: DA নিয়ে সংশয় এবং জট যেন কিছুতেই কাটতে চাইছে না। অবশেষে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশের পরে এবার মহার্ঘ ভাতা বা DA ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল নবান্ন (Nabanna) । বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে বকেয়া DA–র টাকা শুধুমাত্র গ্রুপ–ডি কর্মী ও পেনশন প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকবে কিন্তু বাকিদের টাকা জমা পড়বে জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ডে। কিন্তু এসবের মাঝে কিছু প্রশ্ন এখনও থেকে যাচ্ছে। কারণ এখনও অনেকে বুঝতে পারছে না পেনশন প্রাপকদের ক্ষেত্রে ডিয়ারনেস রিলিফ (Dearness Relief Process Update) কী ভাবে মিলবে। তবে এবার সেই নিয়ে বড় সমাধান প্রকাশ্যে এল।
বকেয়া DA নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা
গত ১৫ মার্চ দুপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছেন, ‘অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি, আমাদের সরকার তার সকল কর্মচারী ও পেনশনভোগী, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির লক্ষ লক্ষ শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, এবং পঞ্চায়েত, পুরসভা ও অনুদান-প্রাপ্ত অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের প্রতি প্রতিশ্রুতি পূরণ করছে। আমাদের অর্থ দপ্তর কর্তৃক জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত ভাবে বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে সকলেই তাঁদের ROPA 2009-এর বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA arrears) পেতে শুরু করবেন।’ এরপরেই রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের মহার্ঘ ভাতা নিয়ে ১৬ মার্চ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার।
বকেয়া DA দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু
বিজ্ঞপ্তিতে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, প্রথম ধাপে ২০১৬–র জানুয়ারি থেকে ২০১৯-র ডিসেম্বর পর্যন্ত বকেয়া DA-র ২৫ শতাংশ মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এই বকেয়া মেটানো হবে দু’কিস্তিতে। প্রথম কিস্তির টাকা মিলবে ৩১ মার্চের মধ্যে। পরের কিস্তির টাকা দেওয়া হবে সেপ্টেম্বরে। কিন্তু এই বকেয়া নিয়ে পেনশন প্রাপকদের ক্ষেত্রে ডিয়ারনেস রিলিফ নিয়ে শুরু হয়েছে সংশয়। জানা গিয়েছে, জীবিত পেনশনারদের ডিয়ারনেস রিলিফ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যাবে। তবে ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ এর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে কেউ যদি পার্ট টাইম কর্মচারী বা আংশিক পেনশনার হয় তাহলে তাঁদের সংশ্লিষ্ট মহার্ঘ ভাতার নির্দিষ্ট পরিমাণ এবং ডিয়ারনেস রিলিফ যথাক্রমে ব্যাঙ্ক থেকে হবে।
মৃত পেনশনারদের পরিবার কীভাবে বকেয়া পাবে?
জানা গিয়েছে, যদি পেনশনার ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ এর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে হয় এবং এখন জীবিত না থাকেন সেক্ষেত্রে একবার পেনশন অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ-র অফিসে গিয়ে কথা বলতে হবে। যদি LTA Nomination করা থাকে তাহলে তিনি টাকা পাবেন। এমনকি যদি কেউ ফ্যামিলি পেনশন প্রাপক না থাকে ও পেনশন বন্ধ হয়ে গিয়ে থাকে তা হলেও LTA হিসেবে ওই ডিয়ারনেস রিলিফ পাওয়া যাবে। যদি ব্যাঙ্কে লিগ্যাল হিয়ার সার্টিফিকেট দেখায়। তবে এই নিয়ে এখনো স্কুল, কলেজ এবং পুরসভায় কিছুই জানানো হয়নি। তবে নিয়ম কলেজের ক্ষেত্রে পেনশন সংক্রান্ত বিষয়ে নোটিশ দেবে হায়ার এডুকেশন, স্কুলের অর্ডার করবে স্কুল এডুকেশন, পুরসভা ক্ষেত্রে করবে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর।
আরও পড়ুন: মধ্যবিত্তদের সাড়ে সর্বনাশ! এতটা দাম বাড়ল সর্ষের তেলের, দেশলাই নিয়েও দুঃসংবাদ
২০১৬ সালে আগে যাঁরা অবসর নিয়েছেন তাঁদের ডিয়ারনেস রিলিফ নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। সেক্ষেত্রে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক অর্থ দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ২০১৬ তে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু হলেও ওই পোর্টালে ২০০৮ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত সরকারি অফিসার ও কর্মীদের কোনও তথ্য নেই। তাই ওই সময়ে কর্মরতদের কত DA ছিল—তার হিসেব পেতে রাজ্যের অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সেক্ষেত্রে বেশ কিছুটা সময় লাগতে পারে।












