সহেলি মিত্র, কলকাতা: কয়েক কোটি টাকার খরচে উদ্বোধন হয়েছে দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলের দ্বিতীয় বিমানবন্দর, জেওয়ার বিমানবন্দরের (Jewar Airport) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শনিবার ২৮ মার্চ নয়ডায় এর উদ্বোধন করেন। প্রাথমিকভাবে বছরে ১ কোটি ২০ লক্ষ যাত্রী সামলানোর জন্য নির্মিত এই প্রকল্পটি ৭ কোটি যাত্রী পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই বিমানবন্দরের ফলে ইন্দিরা গান্ধী ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট-র ওপর চাপ কমবে এবং ভারতের বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করবে। তবে এরই মাঝে একটি খবর ব্যাপক ভাইরাল হচ্ছে। আর সেটা হল, জেওয়ার বিমানবন্দরের কারণে একজন কৃষক (Farmer) কোটিপতি হয়েছেন। সবথেকে বড় কথা, সেই কৃষক কোটি কোটি টাকা পেয়ে সেই টাকায় একটি হেলিকপ্টার কিনেছেন। তিনি তার বন্ধুদের সঙ্গে থাইল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনাও করছেন।
হেলিকপ্টার কিনলেন কৃষক!
সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, জেওয়ার বিমানবন্দরের জন্য সরকারের অধিগ্রহণ করা জমি বহু কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের ব্যাপকভাবে উপকৃত করেছে। একজন কৃষক কোটি কোটি টাকা পেয়ে সেই টাকায় একটি হেলিকপ্টার (UP Farmer Buy Helicopter) কিনেছেন। তিনি তার বন্ধুদের সঙ্গে থাইল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনাও করছেন। তবে, এই দাবিটি কৃষক করেননি। জেওয়ার বিমানবন্দর নির্মাণে নিযুক্ত শ্রমিকদের অন্যতম ঠিকাদার শিবম প্রজাপতি এই দাবিটি করেছেন। শিবম প্রজাপতি বলেছেন, “বিমানবন্দর নির্মাণ এবং তাদের জমি অধিগ্রহণে বেশিরভাগ মানুষই খুব খুশি। প্রত্যেকের শখ পূরণ হয়েছে।”
মানুষের জীবন বদলে দিয়েছে নতুন বিমানবন্দর
রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, শিবম দাবি করেছেন যে বিপুল পরিমাণ জমির মালিক এক কৃষক প্রায় ১৫ কোটি টাকা পেয়েছেন। এমনকি ১৫ কোটি টাকা পাওয়া ওই কৃষক আগামী মাসে তার বন্ধুদের সঙ্গে থাইল্যান্ড ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। বিমানবন্দর নির্মাণের সময় আশেপাশের গ্রামগুলোর ছোট ব্যবসাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গিয়েছে। বানওয়ারী বাসের ২৬ বছর বয়সী বাসিন্দা শিবম প্রজাপতি বলেন, ক্ষতিপূরণের টাকা রাতারাতি মানুষের জীবনযাত্রা বদলে দিয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী এক গ্রামবাসী তার বাড়িতে ছয়টি ঘর তৈরি করে শ্রমিকদের কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন, যা থেকে তিনি ভালো আয় করতেন। তবে, নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাওয়ায় এই আয় কমে গেছে এবং ঘরগুলো এখন খালি পড়ে আছে।
আরও পড়ুনঃ অসময়ের বন্ধু ভারত, সংকট কাটাতে শ্রীলঙ্কাকে ৩৮ হাজার টন পেট্রোল, ডিজেল দিচ্ছে কেন্দ্র
কেউ কেউ মাসে এখন প্রায় ৬০,০০০ টাকা উপার্জন করেন। তবে ওই কৃষকের হেলিকপ্টার কেনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে মর্যাদার প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার অন্যরা একে অপচয়মূলক ব্যয় বলছেন। স্পষ্টতই, এই প্রকল্পটি তাকে অর্থনৈতিক শক্তি জুগিয়েছে, কিন্তু এই আকস্মিক সমৃদ্ধি সামলানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।












